Breaking
সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার পর ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ৫৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে রিয়াদ -দাবি করেছে হুথি গোষ্ঠী

সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার পর ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ৫৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে রিয়াদ -দাবি করেছে হুথি গোষ্ঠী

Share:

Written By

News Desk

সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার পর ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ৫৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে রিয়াদ -দাবি করেছে হুথি গোষ্ঠী

সানা, ইয়েমেন | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল

সৌদি আরবের সামরিক স্থাপনায় হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪টি বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। সোমবার হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির বক্তব্যের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।

ইয়াহিয়া সারির দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরব এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ইয়েমেনের তাইজ, লাহজ, আল-জাওফ, মারিব ও হোদেইদা প্রদেশে এসব হামলা চালিয়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ হুথিদের উল্লেখ করা ৫৪টি হামলার সংখ্যা বা সংশ্লিষ্ট দাবিগুলোর বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি।

সৌদির দক্ষিণাঞ্চলে জরুরি সতর্কতা

হুথিদের দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরবের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর দেশটির সিভিল ডিফেন্স দক্ষিণাঞ্চলের খামিস মুশাইত ও আবহা শহরে জরুরি সতর্কতা জারি করে। পরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নাজরান শহরেও স্বল্প সময়ের জন্য সতর্কতা জারি করা হয়।

খামিস মুশাইতের এক বাসিন্দা এএফপিকে জানান, তিনি “তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ” শুনেছেন এবং আগুন দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলতে দেখেছেন।

তার ভাষায়, “সত্যি বলতে, আমরা একেবারেই ঘুমাতে পারিনি।”

হতাহতের পাল্টাপাল্টি দাবি

ইয়েমেন সরকারের দুই সামরিক কর্মকর্তার বরাতে এএফপি জানিয়েছে, পশ্চিম ইয়েমেনে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সরকারি বাহিনীর আট সদস্য নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে হুথি-সমর্থিত আল-মাসিরাহ টিভির দাবি, সৌদি বিমান হামলায় তাইজ প্রদেশের একটি সেতু ধ্বংস হয়েছে এবং এতে দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তবে এ দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে হুথিদের কাছ থেকে কয়েকটি অবস্থান পুনর্দখল করেছে। সরকারি বার্তা সংস্থা সাবার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এসব অভিযানে অন্তত ১০ জন হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছে।

বাব আল-মান্দাব ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালি ঘিরে উদ্বেগও বাড়ছে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মান্দাবের আশপাশে হুথিদের সামরিক উপস্থিতি বাড়লে সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্য নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনার কারণে তেল পরিবহন ও আন্তর্জাতিক নৌযাত্রায় অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাব আল-মান্দাবের নিরাপত্তার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

সৌদি–মার্কিন সামরিক যোগাযোগ

সৌদি যুবরাজ ও দেশটির কার্যত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান সোমবার জেদ্দায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে বৈঠক করেন। সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছিল, আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সমন্বয় বৈঠকের জন্য অ্যাডমিরাল কুপার সৌদি আরবে সফর করেছেন।

ইরানের ভূমিকা নিয়ে ভিন্ন দাবি

হুথিদের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তাদের অস্ত্র ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সংঘাতে তেহরানের সরাসরি ভূমিকার মাত্রা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার বলেন, “ইরান ইয়েমেনের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না।” তিনি হুথিদের এমন একটি গোষ্ঠী হিসেবে বর্ণনা করেন, যারা নিজেদের স্বার্থের ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়।

হরমুজ নিয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ স্থগিত

ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত এমন সময়ে তীব্র হয়েছে, যখন বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধও অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে।

হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইরানের মধ্যে ওমানে একটি প্রস্তাবিত বৈঠক সোমবার স্থগিত করা হয়। তেহরান অভিযোগ করেছে, সৌদি আরব ইয়েমেন পরিস্থিতিকে বৈঠক বিলম্বের “অজুহাত” হিসেবে ব্যবহার করছে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে ইরানের কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছেন।

সংঘাতে বাস্তুচ্যুত প্রায় ৯৪ হাজার মানুষ

ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ কয়েক বছর তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকার পর নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠায় বেসামরিক মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে।

জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে ৯৩,৮৬৪ জন মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।

২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের পক্ষে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। দীর্ঘ সংঘাত দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে পরিণত করেছে।

সৌদি ভূখণ্ডে হুথিদের নতুন হামলা, ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে পাল্টা বিমান হামলা এবং বাব আল-মান্দাব ঘিরে সামরিক উত্তেজনা—সব মিলিয়ে ইয়েমেনের সংঘাত আবারও আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য বড় উদ্বেগ তৈরি করছে।

সূত্র: AFP