Breaking
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তিতে নোবেল জয়ী হবেন এমন প্রত্যাশায় টুইট করলেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তিতে নোবেল জয়ী হবেন এমন প্রত্যাশায় টুইট করলেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ

Share:

Written By

News Desk

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তিতে নোবেল জয়ী হবেন এমন প্রত্যাশায় টুইট করলেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ

ইসলামাবাদ, পাকিস্তান | ৯ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাবেন—এমন প্রত্যাশা প্রকাশ করেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দেন তিনি। 

তবে শেষ পর্যন্ত নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও সাবেক আন্তর্জাতিক বিচারক নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। একই দিন পুরস্কার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয়। ঘটনাদুটি আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

ট্রাম্পের প্রশংসায় শেহবাজ শরিফের পোস্ট

এক্সে দেওয়া পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্প ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর দাবি, ট্রাম্পের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপ ভারত ও পাকিস্তানকে সংঘাতের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরিয়ে আনতে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সহায়তা করেছিল।

শেহবাজ আরও জানান, ট্রাম্পের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পাকিস্তান তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি বজায় রাখা এবং সংঘাত এড়াতে ট্রাম্পের প্রচেষ্টা এবার যথাযথ স্বীকৃতি পাবে।

তবে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত নিরসনে তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা নিয়ে ভারত ভিন্ন অবস্থান প্রকাশ করেছে। ফলে এ বিষয়ে শেহবাজের বক্তব্যকে পাকিস্তান সরকারের দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন

নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নাভি পিল্লাই

শুক্রবার নরওয়ের নোবেল কমিটি ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য নাভি পিল্লাইয়ের নাম ঘোষণা করে। আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয়-তামিল বংশোদ্ভূত পরিবারে জন্ম নেওয়া পিল্লাই জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক আইনের শাসন শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

নোবেল কমিটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতিষ্ঠান ও বিচারকেরা যখন রাজনৈতিক চাপের মুখে, তখন পিল্লাইকে এ পুরস্কার দেওয়ার মধ্য দিয়ে আইনের শাসনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

নোবেল ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ের খবর প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্র আদালতের সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছে।

রুবিও আইসিসিকে ‘বেপরোয়া আদালত’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ওয়াশিংটনের উদ্বেগের সমাধান না হলে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, “হয় আইসিসি তাদের হুমকি বন্ধ করবে, নয়তো আমরা আইসিসিকে শেষ করে দেব।”

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুসহ ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইসিসির জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছে। আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আদালতের অতীত তদন্তও ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিরোধের একটি কারণ ছিল।

আইসিসির পাল্টা প্রতিক্রিয়া: ‘ইতিহাস এই মুহূর্তের বিচার করবে’

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। আদালতের বিবৃতিতে বলা হয়, এ পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও আইনের শাসনের ওপর আঘাত এবং এমন একটি আইনি ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা, যেখানে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, “ইতিহাস এই মুহূর্তের বিচার করবে।”

আইসিসি আরও জানায়, নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয় দেখানো এবং প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে আদালত স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতে গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

আদালতটির সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতিও প্রতিষ্ঠানটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলায় ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে আর্থিক, প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক সুরক্ষাব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা চলছে।

আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে নতুন বিতর্ক

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের মতো গুরুতর অপরাধের বিচার করে। নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আদালতটির সদস্যরাষ্ট্রের সংখ্যা ১২৫। যুক্তরাষ্ট্র আদালতের সদস্য নয়।

নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল পুরস্কার এবং একই দিনে আইসিসির বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঘটনা আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্নকে আরও সামনে এনেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র আদালতের কিছু পদক্ষেপকে নিজেদের স্বার্থের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে; অন্যদিকে আইসিসি বলছে, নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিকে আঘাত করে।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছিলেন শেহবাজ শরিফ, কিন্তু পুরস্কারটি পেয়েছেন নাভি পিল্লাই। আর পুরস্কার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক রাজনীতি, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

দ্য গ্লোবাল জার্নাল