Breaking
এবার হরমুজ প্রণালীতে সামরিক বাহিনী বাহিনী ও বেসামরিক মোতায়েনের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করছে দক্ষিণ কোরিয়া —রয়টার্স

এবার হরমুজ প্রণালীতে সামরিক বাহিনী বাহিনী ও বেসামরিক মোতায়েনের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করছে দক্ষিণ কোরিয়া —রয়টার্স

Share:

Written By

News Desk

এবার হরমুজ প্রণালীতে সামরিক বাহিনী বাহিনী ও বেসামরিক মোতায়েনের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করছে দক্ষিণ কোরিয়া —রয়টার্স

— গ্লোবাল জার্নাল | সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া | ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক ও বেসামরিক—উভয় ধরনের সহযোগিতার বিকল্প পর্যালোচনা করছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে সম্ভাব্য সামরিক মোতায়েনের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েকটি সংবাদমাধ্যম এর আগে জানিয়েছিল, সিউল চলতি বছরের শেষ নাগাদ হরমুজ প্রণালিতে সামরিক সম্পদ মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সম্ভাব্য পরিকল্পনার মধ্যে সামুদ্রিক টহল বিমান, লজিস্টিক সহায়তা জাহাজ এবং মাইন শনাক্ত ও অপসারণকারী ইউনিট পাঠানোর বিকল্প রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামরিক ও অসামরিক—দুই ধরনের বিকল্প বিবেচনায়

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে কীভাবে বাস্তব অবদান রাখা যায়, তা নিয়ে সিউল আলোচনা করছে। এসব বিকল্পের মধ্যে সামরিক পদক্ষেপও রয়েছে।

তবে কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেন, “কিছুই এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।” সম্ভাব্য কোনো মোতায়েনের আগে অভ্যন্তরীণ আইনগত প্রক্রিয়া, কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা এবং জাতীয় সংসদের অনুমোদনের বিষয় বিবেচনা করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সঙ্গে আলোচনা

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য দক্ষিণ কোরীয় অবদানের পরিসর ও ধরন নিয়ে সিউল যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে।

এর আগে মে মাসেও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, হরমুজে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় সিউল ধাপে ধাপে কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।

লি জে মিয়ং-ম্যাক্রোঁ বৈঠকেও উঠতে পারে হরমুজ প্রসঙ্গ

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং আগামী সপ্তাহে ফ্রান্স সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠক করবেন। ওই আলোচনায় হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য দক্ষিণ কোরীয় ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় জনসমর্থন নিয়ে প্রশ্ন

বিদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী মোতায়েন করতে জাতীয় সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে হরমুজে সম্ভাব্য সামরিক মিশনের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, Gallup Korea-এর মার্চের জরিপে ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা হরমুজ প্রণালিতে দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিরোধিতা করেছিলেন। বিপরীতে ৩০ শতাংশ এ ধরনের মোতায়েনের পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

২০০৯ সালের পর বড় সামুদ্রিক মোতায়েনের সম্ভাবনা

রয়টার্স জানিয়েছে, প্রস্তাবিত মিশন অনুমোদিত হলে এটি কোরীয় উপদ্বীপের বাইরে দক্ষিণ কোরিয়ার ২০০৯ সালে গালফ অব এডেনে চেয়ংহে জলদস্যুবিরোধী ইউনিট মোতায়েনের পর প্রথম বড় ধরনের সামুদ্রিক মিশন হতে পারে।

হরমুজ প্রণালি দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানির একটি বড় অংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে প্রণালির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হলে দক্ষিণ কোরিয়ার জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা এগোলেও সামরিক বাহিনী বা কোনো নির্দিষ্ট সামরিক ইউনিট মোতায়েনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি বর্তমানে নীতিগত, সামরিক ও আইনি মূল্যায়নের পর্যায়ে রয়েছে।

— গ্লোবাল জার্নাল | সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া | ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সূত্র: রয়টার্স ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়