'যুদ্ধকালীল সময়ে ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করে আমরা মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে ফেলছি' -মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ওহাইও, যুক্তরাষ্ট্র | ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
মঙ্গলবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়ে এ মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা হয়তো (ইরানের) নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করতে গিয়ে বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি। কারণ, এখন আমরা জানিই না, আসলে কার সঙ্গে আমাদের আলোচনা করা উচিত।”
তিনি আরও দাবি করেন, ঝুঁকির কারণে কেউ ইরানের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামনে নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি একটি জটিলতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্পের দাবি
সমাবেশে ট্রাম্প ইরানকে ‘সন্ত্রাসবাদের শীর্ষ পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি আবারও বলেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।
মার্কিন সামরিক অভিযানে ইরানের বিমান ও নৌবাহিনী সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ১৫৯টি নৌযানের সবগুলোই ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে এগুলো ট্রাম্পের বক্তব্য ও দাবি। সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এবং এসব দাবির স্বাধীন যাচাইয়ের বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ
এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইরানের নেতৃত্ব কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে ওয়াশিংটনের অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেছিলেন।
৬ অক্টোবর প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ইরানের সঙ্গে যেকোনো কার্যকর চুক্তির জন্য দেশটির ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো প্রয়োজন। শুধু ভবিষ্যতে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত রাখার প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট হবে না বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, তেহরানকে এমন পদক্ষেপ নিতে হবে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে প্রতিফলিত করে। অন্যদিকে, ইরান তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের দাবির সঙ্গে মতপার্থক্য রয়েছে।
কূটনৈতিক সমাধানের পথে অনিশ্চয়তা
ট্রাম্প ও ভ্যান্সের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ স্পষ্ট হয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করার শর্তে জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে আলোচনায় ইরানের পক্ষে কারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অনিশ্চয়তার কথা সামনে এসেছে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র অবগত এবং আলোচনার জটিলতার কারণ ওয়াশিংটনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও অবস্থান। ফলে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা নির্ভর করছে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিরাপত্তা এবং আলোচনার শর্তগুলোতে কতটা অগ্রগতি হয়, তার ওপর
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য তাই শুধু ইরানের নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করার সামরিক কৌশল নিয়েই নয়, বরং চলমান সংঘাতের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার জন্য নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পক্ষ খুঁজে পাওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স এবং দ্য জেরুজালেম পোস্ট।





