ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক আগ্রাসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়েছে এবং তারা ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ— ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র
— গ্লোবাল জার্নাল | মাশহাদ, ইরান | ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক আগ্রাসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়েছে এবং তারা ঘোষিত কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি বলে দাবি করেছেন ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া।
শুক্রবার মাশহাদে এক স্থানীয় অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে আকরামিনিয়া বলেন, ইরান ও দেশটির সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে একাধিক ভুল হিসাব-নিকাশ করেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাতে জড়িয়েছে। তার বক্তব্য প্রেস টিভি-র এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে।
আকরামিনিয়া দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের পেছনে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর “প্ররোচনা ও হুমকি” কাজ করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ইরানে হামলার মাধ্যমে একাধিক কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করেছিল।

তিনি বলেন, “শত্রুপক্ষ তাদের হামলায় অনেকগুলো লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল—এর মধ্যে ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা, সরকার উৎখাত করা এবং অবশ্যই ইরানকে বিভক্ত করা। কিন্তু তারা এসব কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি।”
ইরানের সক্ষমতা নিয়ে ভুল হিসাবের অভিযোগ
ইরানি এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, আগ্রাসীদের অন্যতম বড় ভুল ছিল ইরানি জনগণের মানসিকতা ও অবস্থান সঠিকভাবে বুঝতে না পারা। একই সঙ্গে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কেও তারা ভুল ধারণা করেছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তার মতে, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে ভুল মূল্যায়নও আগ্রাসীদের পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করেছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে তেহরানের সক্ষমতা সম্পর্কেও প্রতিপক্ষের সঠিক ধারণা ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।
আকরামিনিয়া আরও বলেন, ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমা মিত্রদের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সরাসরি যোগ না দেওয়াও আগ্রাসীদের বড় একটি ভুল হিসাব ছিল।

‘ইচ্ছাশক্তির যুদ্ধে শত্রুপক্ষ দুর্বল’
ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেন, “ইচ্ছাশক্তির যুদ্ধে শত্রুপক্ষ দুর্বল।” এর বিপরীতে ইরানি জনগণের দৃঢ়তা ও প্রতিরোধের সক্ষমতার কথা তুলে ধরেন তিনি।
আকরামিনিয়ার দাবি, ইরানের প্রতিরোধক্ষমতার পেছনে দেশটির ধর্মীয় বিশ্বাস, দৃঢ় সংকল্প এবং পূর্ববর্তী যুদ্ধগুলোর অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব উপাদান ইরানকে সাম্প্রতিক সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং দীর্ঘমেয়াদি চাপ মোকাবিলা করতে সক্ষম করেছে।
দাবিগুলো ইরানি সামরিক নেতৃত্বের বক্তব্য
ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের এসব মন্তব্য মূলত দেশটির সামরিক নেতৃত্বের নিজস্ব মূল্যায়ন ও দাবি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এসব দাবির বিষয়ে সমপর্যায়ের প্রতিক্রিয়া বা স্বাধীন যাচাই এখানে উপস্থাপিত হয়নি। ফলে যুদ্ধের প্রকৃত সামরিক ফলাফল ও ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে আরও স্বাধীন তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য প্রয়োজন।
— গ্লোবাল জার্নাল | মাশহাদ, ইরান | ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সূত্র: Press TV





