শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্তভাবে ইউক্রেনের কাছেই ছাড় চাইছে,রাশিয়ার কাছ থেকে নয় -প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি
মিউনিখ, জার্মানি | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |দ্যা গ্লোবাল জার্নাল
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট Volodymyr Zelenskyy অভিযোগ করেছেন যে, শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র “অত্যন্ত বেশি” ছাড় কেবল ইউক্রেনের কাছেই দাবি করছে, রাশিয়ার কাছ থেকে নয়। একই সঙ্গে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin-কে “যুদ্ধের দাস” বলে আখ্যা দিয়ে মস্কোর বিরুদ্ধে আলোচনা বিলম্বিত করার অভিযোগ তোলেন।
শনিবার Munich Security Conference-এ দেওয়া ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আগামী সপ্তাহে জেনেভায় অনুষ্ঠেয় ত্রিপক্ষীয় বৈঠক “গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ” হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন। তবে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, “কখনও কখনও মনে হয় পক্ষগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলছে।”
জেলেনস্কি বলেন, “আমেরিকানরা প্রায়ই ছাড়ের প্রসঙ্গে ফিরে আসে, এবং খুবই বেশি ক্ষেত্রে সেই ছাড় শুধু ইউক্রেনের কাছ থেকেই চাওয়া হয়, রাশিয়ার কাছ থেকে নয়।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, যে কোনো শান্তিচুক্তির ভিত্তি হতে হবে “স্পষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা”।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে চলমান যুদ্ধে সম্প্রতি আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দফা আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষ সেগুলোকে “গঠনমূলক” বললেও দৃশ্যমান অগ্রগতি আসেনি। এ সপ্তাহে জেনেভায় আবার বৈঠকের কথা রয়েছে।
ইউরোপের ভূমিকা প্রসঙ্গে জেলেনস্কি বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি আলোচনায় অংশ নিলে যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ত। “ইউরোপ কার্যত আলোচনার টেবিলে নেই—এটি একটি বড় ভুল,” মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচনার অন্যতম বিতর্কিত বিষয় হচ্ছে রাশিয়ার দাবি—ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক অঞ্চলের অবশিষ্ট অংশ থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। কিয়েভ একতরফা সেনা প্রত্যাহার প্রত্যাখ্যান করেছে এবং যুদ্ধবিরতির পর সম্ভাব্য পুনরায় আগ্রাসন ঠেকাতে পশ্চিমাদের নিরাপত্তা গ্যারান্টি চেয়েছে।
সাংবাদিকদের জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ-পরবর্তী ১৫ বছরের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রস্তাব দিয়েছে, তবে ইউক্রেন ২০ বছর বা তার বেশি মেয়াদের নিশ্চয়তা চায়। তিনি দাবি করেন, ইউক্রেনে বিদেশি সেনা মোতায়েনের বিরোধিতা করছেন পুতিন, কারণ তা ভবিষ্যৎ আগ্রাসন প্রতিরোধে কার্যকর হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, রাশিয়াকে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ মিশন ও যুদ্ধবন্দি বিনিময়ে সম্মত হতে হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাশিয়ার হাতে প্রায় ৭,০০০ ইউক্রেনীয় সেনা এবং ইউক্রেনের হাতে ৪,০০০-এর বেশি রুশ সেনা রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর কাছ থেকে চাপ অনুভব করার কথাও স্বীকার করেন জেলেনস্কি। তিনি জানান, ট্রাম্প তাকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে শান্তির সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জেলেনস্কি রাশিয়াকে শান্তিতে বাধ্য করতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও আরও সামরিক সহায়তার আহ্বান জানান।
রাশিয়া জেনেভা আলোচনায় প্রতিনিধি দল পরিবর্তন করায় জেলেনস্কি বিস্ময় প্রকাশ করেন। ক্রেমলিন জানিয়েছে, প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পুতিনের উপদেষ্টা ভ্লাদিমির মেদিনস্কি, যার ভূমিকা নিয়ে অতীতে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা সমালোচনা করেছেন।
ভাষণের এক পর্যায়ে জেলেনস্কি ১৯৩৮ সালের মিউনিখ চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তৎকালীন চেকোস্লোভাকিয়ার অংশ নাৎসি জার্মানিকে ছেড়ে দেওয়া ইউরোপকে বড় যুদ্ধ থেকে রক্ষা করতে পারেনি। “ইউক্রেনকে ভাগ করে দিয়ে এই যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে না,”—জোর দিয়ে বলেন তিনি।


