Breaking
৭৪তম জন্মদিন উদযাপন করছেন একটানা ২৬বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

৭৪তম জন্মদিন উদযাপন করছেন একটানা ২৬বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

Share:

Written By

News Desk

৭৪তম জন্মদিন উদযাপন করছেন একটানা ২৬বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন  

মস্কো, রাশিয়া | ৭ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আজ ৭৪তম জন্মদিন উদযাপন করছেন। ১৯৫২ সালের ৭ অক্টোবর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের লেনিনগ্রাদে জন্ম নেওয়া পুতিন গত প্রায় ২৬ বছর ধরে রাশিয়ার রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে রয়েছেন। ১৯৯৯ সালের শেষ দিনে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাশিয়ার রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে তিনি অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

২০২৬ সালেও আন্তর্জাতিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মঞ্চে সক্রিয় ছিলেন পুতিন। চলতি বছরে তিনি ব্রিকস সম্মেলন, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO) সম্মেলন এবং রাশিয়া–আসিয়ান সম্মেলনে অংশ নেন। এসব বৈঠকে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, জ্বালানি, প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং গ্লোবাল সাউথ ও ইস্টের দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

রাজনীতিতে দীর্ঘ পথচলা

ভ্লাদিমির পুতিন ১৯৭৫ সালে লেনিনগ্রাদ স্টেট ইউনিভার্সিটির আইন অনুষদ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি সোভিয়েত নিরাপত্তা সংস্থা কেজিবিতে (KGB) কাজ করেন এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিন পদত্যাগ করলে পুতিন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ২০০০ সালের ২৬ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

পুতিন ২০০৪ সালেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। সাংবিধানিক মেয়াদসীমার কারণে ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং দিমিত্রি মেদভেদেভ প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে পুতিন আবার প্রেসিডেন্ট পদে ফিরে আসেন এবং ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনেও জয়ী হন।

রাশিয়ার আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বড় আয়োজন

পুতিনের দীর্ঘ শাসনামলে রাশিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখা ও বিভিন্ন বহুপাক্ষিক কাঠামোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

এই সময়ে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০১৪ সালের সোচি শীতকালীন অলিম্পিক এবং ২০১৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক আয়োজন। একই সঙ্গে ব্রিকস, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO) এবং ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়ন (EAEU)-সহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক কাঠামোর সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক ও সহযোগিতাও বিস্তৃত হয়েছে।

২০২৬ সালে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলন, বিশকেকে অনুষ্ঠিত SCO সম্মেলন এবং কাজানে অনুষ্ঠিত রাশিয়া–আসিয়ান সম্মেলনে পুতিনের অংশগ্রহণ রাশিয়ার বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক তৎপরতার ধারাবাহিকতাকে তুলে ধরে।

রাশিয়া–চীন সম্পর্কেও গুরুত্ব

২০২৬ সালে রাশিয়ার পররাষ্ট্রনীতিতে চীনের সঙ্গে সম্পর্কও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, অর্থনীতি ও কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি রাশিয়া চীনের সঙ্গে একটি স্থায়ী ভিসামুক্ত ভ্রমণ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।

রাশিয়ার দৃষ্টিতে চীনসহ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা দেশটির বৃহত্তর বহুপাক্ষিক ও অর্থনৈতিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

জন্মদিনে শুভেচ্ছা

৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষে ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের কাছ থেকেও শুভেচ্ছা গ্রহণ করছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পুতিন রাশিয়ার রাষ্ট্রক্ষমতার অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী ও প্রভাবশালী নেতায় পরিণত হয়েছেন। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর তার ৭৪তম জন্মদিনে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে