ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে বেসামরিক নাগরিকদের উপর হামলার ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন -মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স
— গ্লোবাল জার্নাল | ওয়াশিংটন ডিসি | ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে চালানো সাম্প্রতিক বিমান হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা অব্যাহত থাকার মধ্যে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ভ্যান্স বলেন, “আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি, কারণ অবশ্যই আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা জানতে চাই কী ঘটেছে।” তিনি আরও বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী কোনো ভুল করলে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে নিজেদের কার্যক্রম আরও উন্নত করার চেষ্টা করে।
ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের অনুষ্ঠানকে লক্ষ্য করে চালানো ওই হামলায় প্রাথমিকভাবে চারজন নিহত এবং প্রায় ৭০ জন আহত হন। পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, আহতদের মধ্যে ২২ বছর বয়সী আরও এক নারী হাসপাতালে মারা গেছেন। তবে এসব হতাহতের তথ্যের স্বাধীন যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হয়নি।
হামলার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত থাকার কথা জানালেও বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কোনো উদ্দেশ্য ছিল না বলে দাবি করেছে।

‘ভুল হলে আমরা তা থেকে শিক্ষা নিই’: ভ্যান্স
হোয়াইট হাউস ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনার পার্থক্য তুলে ধরে ভ্যান্স দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের সক্ষমতা ও কার্যক্রম উন্নত করার চেষ্টা করে।
তার এ বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন ইরানে মার্কিন হামলায় বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
যুদ্ধ শেষের সময়সীমা জানালেন না ভ্যান্স
ইরানকে ঘিরে চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক সংঘাত কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ভ্যান্স।
তিনি সংঘাতটিকে সরাসরি ‘যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করার বিষয়েও আপত্তি জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বড় ধরনের সামরিক অভিযান প্রায় ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হয়েছিল এবং এর ফলে ইরানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে।
তবে তিনি স্বীকার করেন, কিছু এলাকায় সংঘাত আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানকে দায়ী করলেন ভ্যান্স
সংঘাতের বৈশ্বিক প্রভাবের প্রসঙ্গে ভ্যান্স হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তার অভিযোগ, ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যপথে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে।
ভ্যান্সের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ ও জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক রাখা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট প্রতিরোধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের জন্য আরও অনুকূল পরিস্থিতি তৈরিতে সহায়তা করছে।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান
ভ্যান্স আরও দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে হস্তান্তরের নতুন চুক্তি বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমাতে সহায়তা করতে পারে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরানের পদক্ষেপের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে প্রভাব পড়ছে, তা ধীরে ধীরে কমছে।
তবে এসব দাবির বাস্তব প্রভাব মূল্যায়নে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
মিত্রদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান
সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স মার্কিন মিত্র দেশগুলোর প্রতি চলমান পরিস্থিতিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সুরক্ষিত রাখতে কাজ করছে, যাতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট সৃষ্টি না হয়।
ভ্যান্সের দাবি, বড় ধরনের বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এখনো এড়ানো সম্ভব হয়েছে মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্ব এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ডের কারণে।
ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনা তদন্তের ঘোষণা এমন সময়ে এলো, যখন পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
— গ্লোবাল জার্নাল | ওয়াশিংটন ডিসি | ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সূত্র: The White House ও আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদন





