রাশিয়ার সঙ্গে বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও শক্তিশালী বন্ধুত্বপূর্ণ সময় পার করছে ইরান —পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচি
তেহরান, ইরান | ২০ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে আরও ঘনিষ্ঠ। দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, অতীতে কখনোই ইরান ও রাশিয়া বর্তমান সময়ের মতো এত ঘনিষ্ঠভাবে একসঙ্গে কাজ করেনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি লেখেন, “আমাদের ইতিহাসে কখনোই ইরান ও রাশিয়া আজকের মতো এত ঘনিষ্ঠভাবে একসঙ্গে কাজ করেনি।”
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন তেহরান ও মস্কো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

তেহরানে ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠক
এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) তেহরানে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠক করেন আব্বাস আরাঘচি। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং পারমাণবিক ইস্যুতে মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা
বৈঠকে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল লেবানন, ফিলিস্তিন, ইউক্রেন ও ইয়েমেনের পরিস্থিতি।
বিশ্লেষণধর্মী দৃষ্টিকোণ থেকে, এসব বিষয়ে তেহরান ও মস্কোর কূটনৈতিক যোগাযোগ দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে।
অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতায় গুরুত্ব
ইরান ও রাশিয়া বাণিজ্য, অর্থনীতি এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। আরাঘচির সাম্প্রতিক বক্তব্য দুই দেশের বর্তমান সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা সম্পর্কে ইরানের সরকারি অবস্থান তুলে ধরেছে।
তবে সম্পর্কের এই ঘনিষ্ঠতা ভবিষ্যতে কীভাবে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাস্তব সহযোগিতায় প্রতিফলিত হয়, তা নির্ভর করবে দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপ ও পারস্পরিক উদ্যোগের ওপর।









