৩৭ বছর বয়সে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতিহাস গড়া জেসিন্ডা আর্ডার্ন এবার যোগ দিলেন মেন্টরিং ও শিক্ষকতা পেশায়
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া | ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্ন এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ও তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশে মেন্টরিংয়ের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর ২৭ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অবস্থিত সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি শিক্ষক ও পরামর্শক হিসেবে যোগ দিয়েছেন তিনি। সেখানে নেতৃত্ব, সামাজিক সম্প্রীতি ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করবেন আর্ডার্ন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দায়িত্ব তাঁর জন্য পূর্ণকালীন চাকরি নয়। বরং বিশেষ মাস্টারক্লাস, বক্তৃতা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের শিক্ষা ভাগ করে নেবেন তিনি।
নেতৃত্ব ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে পড়াবেন আর্ডার্ন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্ডার্নের শিক্ষাদান ও পরামর্শমূলক কার্যক্রমের মূল বিষয় হবে নেতৃত্ব, সামাজিক সংহতি এবং জনস্বাস্থ্য। রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট মোকাবিলায় নেতৃত্বের ভূমিকা এবং কঠিন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরবেন তিনি।
রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর কীভাবে সংকটের মধ্যে কার্যকর ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দেওয়া যায়, তা নিয়ে তাঁর আগ্রহ আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে তরুণদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

মাত্র ৩৭ বছর বয়সে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী
২০১৭ সালে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পান জেসিন্ডা আর্ডার্ন। তাঁর নেতৃত্বের সময়ে দেশটি ২০১৯ সালের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা, হোয়াইট আইল্যান্ডে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং কোভিড-১৯ মহামারির মতো বড় সংকটের মুখোমুখি হয়।
এসব ঘটনায় সরকারের প্রতিক্রিয়া, জনস্বাস্থ্যনীতি এবং সংকটকালে নেতৃত্ব দেওয়ার ধরন নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনা হয়। বিশেষ করে ক্রাইস্টচার্চ হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি তাঁর সহমর্মিতা এবং সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করে।
রাজনীতি ছাড়ার পর গবেষণা ও নতুন অধ্যায়
২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর আর্ডার্ন রাজনীতির বাইরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শিক্ষাগত ও জননীতি-সংক্রান্ত কার্যক্রমে যুক্ত হন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়েও গবেষণা ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে অংশ নেন।
বর্তমানে স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাস করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর নতুন দায়িত্ব রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে শিক্ষা, নেতৃত্ব বিকাশ এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনায় কাজে লাগানোর আরেকটি সুযোগ তৈরি করেছে।
তরুণদের জন্য অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ
আর্ডার্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার পরিচালনা, সংকট ব্যবস্থাপনা এবং জনকল্যাণমূলক নীতিনির্ধারণ সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগ তৈরি করবে। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা ও পরবর্তী গবেষণামূলক কাজ নেতৃত্ব নিয়ে একাডেমিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ২৭ অক্টোবর ২০২৬।









