আন্দোলন-সংগ্রাম কিংবা বিক্ষোভের নামে কোনো ধরনের সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না — ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ
দোহা, কাতার | ২১ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে চলমান বিক্ষোভ ও অসন্তোষের মধ্যে সহিংসতা এবং বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেছেন, বিক্ষোভের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
একই সঙ্গে ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টার অভিযোগে কয়েকজন বিদেশি নেতার বক্তব্যেরও সমালোচনা করেছেন তিনি।কাতারের রাজধানী দোহায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ম্যাক্রোঁ এসব কথা বলেন। সেখানে তিনি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে বৈঠক করেন। ফ্রান্সে নতুন করে বিক্ষোভের প্রস্তুতির পরিপ্রেক্ষিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক করার পরিকল্পনার কথাও জানান ফরাসি প্রেসিডেন্ট।
বিদেশি নেতাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অভিযোগ
ম্যাক্রোঁ বলেন, ফ্রান্সে সংঘটিত ঘটনাগুলোর পেছনে বিদেশি হস্তক্ষেপের কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে এসব ঘটনার পরবর্তী সময়ে তথ্য নিয়ে কারসাজি ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে কয়েকজন বিদেশি নেতার মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য, এমনকি নির্বোধসুলভ। তাঁর অভিযোগ, এসব নেতা নিজেদের রাজনৈতিক সমর্থকদের উজ্জীবিত করতে ফ্রান্সের বিক্ষোভকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সের বিক্ষোভের পেছনে অভিবাসনসংক্রান্ত বিষয়কে দায়ী করেছিলেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন, ফ্রান্স ‘চরমপন্থী ইসলামের আগ্রাসনে’ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ম্যাক্রোঁর সমালোচনা এসব বক্তব্যের প্রতিও ইঙ্গিত করে থাকতে পারে।

বিক্ষোভ ঘিরে দাঙ্গা ও ব্যাপক গ্রেপ্তার
জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়নের দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভের ঘটনা দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত শনিবার পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। কয়েকটি এলাকায় দাঙ্গা ও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত আড়াই হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশে শান্তি, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন ম্যাক্রোঁ। তবে বিক্ষোভের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং গ্রেপ্তারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ তথ্য এখানে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
নতুন বিক্ষোভের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ
এদিকে, ফ্রান্সের ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিক্ষোভকারীরা প্যারিসে আগামী সপ্তাহান্তে বড় ধরনের সমাবেশের পরিকল্পনা জমা দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর আগে টানা দ্বিতীয় রাতেও কারফিউ বহাল ছিল। তবে ওই সময় বড় ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু ভবিষ্যতের বিক্ষোভগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রয়োজনে সামরিক বাহিনীর সহায়তায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েনের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে ফ্রান্স সরকার
ফরাসি সরকারের সামনে এখন একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে জনসাধারণের অসন্তোষ মোকাবিলা, অন্যদিকে বিক্ষোভের সময় জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ম্যাক্রোঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, সরকার সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
তবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার এবং সহিংসতা দমনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ হবে। ফ্রান্সে সম্ভাব্য নতুন বিক্ষোভ, সরকারের নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে জনঅসন্তোষের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি এখন আন্তর্জাতিক মহলেরও নজরে রয়েছে।









