Breaking
ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে নেতানিয়াহুর পরাজয় হলে বদলে দিতে পারে ইরান যুদ্ধের গতিপথ,পাল্টাতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে নেতানিয়াহুর পরাজয় হলে বদলে দিতে পারে ইরান যুদ্ধের গতিপথ,পাল্টাতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি

Share:
News Desk
Written Byadmin

News Desk

No comments yet. Be the first to share your thoughts! Comments.header

View Articles

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে নেতানিয়াহুর পরাজয় হলে বদলে দিতে পারে ইরান যুদ্ধের গতিপথ,পাল্টাতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি 

জেরুজালেম, ইসরায়েল | ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের মধ্যে রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়েও বিতর্ক জোরালো হয়েছে। বুথফেরত জরিপে দুই নেতার নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল এবং পরবর্তী সরকার গঠনের সমীকরণ এখনো অনিশ্চিত।

ইরানের সঙ্গে সংঘাত কীভাবে শেষ করা হবে, তা নিয়ে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের অবস্থানে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। নেতানিয়াহু ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনকে স্থায়ী শান্তির পথ হিসেবে তুলে ধরছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সাবেক প্রধান আইজেনকোট মনে করেন, ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে অর্জনযোগ্য বাস্তব লক্ষ্য নয়। তাঁর অবস্থানে অর্থনৈতিক চাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব রয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল শুধু ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিই নয়, ইরান নিয়ে দেশটির ভবিষ্যৎ নীতি এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের ধরনেও প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে দুই নেতার ভিন্ন অবস্থান

ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান ও বর্তমান রাজনৈতিক নেতা গাদি আইজেনকোট এমন একটি রাষ্ট্রের ধারণার পক্ষে কথা বলেন, যেখানে ইহুদি ও আরব জনগোষ্ঠী সহাবস্থান করতে পারে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গাজায় যুদ্ধে তাঁর ছেলে নিহত হন। ব্যক্তিগত এই ক্ষতির পরও তিনি ইরান নিয়ে নেতানিয়াহুর যুদ্ধনীতির সমালোচনা করে আসছেন।

আইজেনকোটের মতে, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক সক্ষমতা সীমিত করার একটি কার্যকর উপায় হতে পারে। তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি মোকাবিলায় সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। তবে সর্বাত্মক যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার পরিবর্তে পরিকল্পিত চাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর অবস্থান হলো, ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন। তাঁর এই নীতির ফলে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক চলছে।

নির্বাচনের এক দিন আগে নেতানিয়াহু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি তেল আবিবে পারমাণবিক বিস্ফোরণের একটি ছবি প্রকাশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানকে ঘিরে নিরাপত্তা-উদ্বেগ নির্বাচনি প্রচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে।

ট্রাম্পকে ইরানে যৌথ হামলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু?

সিএনএনের একটি প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাতে সম্মতি দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ইসরায়েলের একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, নেতানিয়াহু নির্বাচনের আগে ইরানে যৌথ হামলার বিষয়ে ট্রাম্পকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি সবুজ সংকেত দেননি।

তবে নেতানিয়াহুর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া খবর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে প্রস্তাবটির বিষয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এক নয় এবং দাবিটির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার জন্য আরও তথ্য প্রয়োজন।

নির্বাচনের সময় যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে উঠেছে। তবে এসব অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ যাচাই করা জরুরি।

আইজেনকোটের মতে, শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নয়

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সাবেক প্রধান আইজেনকোট বলেছেন, ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন একটি বাস্তবায়নযোগ্য লক্ষ্য নয়। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নেতানিয়াহুর যুদ্ধনীতির সমালোচনা করে আসছেন। তাঁর মতে, সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা এবং যুদ্ধের পরিণতি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনের বরাতে আইজেনকোটের অবস্থান তুলে ধরে বলা হয়েছে, নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করার পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিস্তারের সুযোগ রয়েছে।

এই দৃষ্টিভঙ্গি নেতানিয়াহুর নীতির সঙ্গে মৌলিক পার্থক্য তৈরি করেছে। একদিকে নেতানিয়াহু সামরিক শক্তি ও শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের ওপর জোর দিচ্ছেন, অন্যদিকে আইজেনকোট অর্থনৈতিক চাপ, পরিকল্পিত পদক্ষেপ এবং কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও মতপার্থক্য

ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও দুই নেতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। নেতানিয়াহু ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে ইসরায়েলের নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন।

অন্যদিকে, আইজেনকোট মনে করেন, ইসরায়েলকে নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

ইরান নিয়ে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এই মতপার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ, ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার সামরিক অভিযান, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে কোন পথকে অগ্রাধিকার দেবে, তা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয়ের ধরনকেও প্রভাবিত করতে পারে।

নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে কী দেখা যাচ্ছে?

প্রাথমিক বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি ও ধর্মীয় দলগুলোর জোটের জন্য স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতার আভাস পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলো উল্লেখযোগ্য আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিরোধী জোটের দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় তারা শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন একত্র করতে পারবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ইসরায়েলের ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য সাধারণত অন্তত ৬১ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে কোনো একটি দল সবচেয়ে বেশি ভোট পেলেও এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলে অন্যান্য দলের সমর্থন নিয়ে জোট গঠনের প্রয়োজন হতে পারে।

আরব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর অবস্থানও সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ইসরায়েলের জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ আরব জনগোষ্ঠীর। তবে এসব দলের সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নেতানিয়াহু সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকার দাবি ও জোটের অনিশ্চয়তা

ভোট গ্রহণের পর এক অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহুকে আত্মবিশ্বাসী দেখা যায়। তিনি গত তিন বছরের সামরিক সাফল্যের তালিকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকার পক্ষে যুক্তি দেন এবং বিরোধী দলগুলোর প্রতি তাঁর সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে আরব দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক অংশীদারত্বের সম্ভাবনা নাকচ করে তিনি এমন সহযোগিতাকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতার’ সঙ্গে তুলনা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বুথফেরত জরিপ চূড়ান্ত ফলাফল নয়। ভোট গণনা, আসন বণ্টন এবং জোট গঠনের আলোচনা শেষ হওয়ার আগে ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার কে গঠন করবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

নেতানিয়াহুর পরাজয় হলে ইরান যুদ্ধের গতিপথ কি বদলাবে?

নেতানিয়াহু ক্ষমতা হারালে ইরান নিয়ে ইসরায়েলের নীতিতে পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে—বিশেষ করে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করা, অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে। আইজেনকোটের অবস্থান থেকে বোঝা যায়, তিনি ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনকে যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্য হিসেবে দেখার বিষয়ে সংশয়ী।

তবে সরকার পরিবর্তন হলেই ইরান-সংক্রান্ত নীতি সম্পূর্ণ বদলে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ইসরায়েলের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি—সবকিছুই ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।

উপসংহার: ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়; ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়েও এটি গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য সামনে এনেছে। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল এবং পরবর্তী সরকারের বাস্তব সিদ্ধান্তের আগে ইরান যুদ্ধের গতিপথ বদলে যাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।

সূত্র: এনডিটিভি; প্রতিবেদনে উদ্ধৃত সিএনএন ও নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য।

Latest Updates

View All
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের সফল পরীক্ষা চালাল কিম জং-উনের উত্তর কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের সফল পরীক্ষা চালাল কিম জং-উনের উত্তর কোরিয়া

Politics11/1/2026
৩রা নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের আশংকায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি, জনসমর্থন নেমে এসেছে ৩৩ শতাংশে

৩রা নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের আশংকায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি, জনসমর্থন নেমে এসেছে ৩৩ শতাংশে

Lead News11/1/2026
আমাদের সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা ফেলে এবার কোন ভৌগোলিক সীমারেখা মানবে না ইরানের সামরিক বাহিনী—মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহির

আমাদের সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা ফেলে এবার কোন ভৌগোলিক সীমারেখা মানবে না ইরানের সামরিক বাহিনী—মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহির

War11/1/2026
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কোন প্রয়োজনীয়তা আমরা দেখছি না,বৈঠকের কোন পরিকল্পনাও নেই -ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কোন প্রয়োজনীয়তা আমরা দেখছি না,বৈঠকের কোন পরিকল্পনাও নেই -ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি

Middle East10/31/2026