ইরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ -ইসরায়লের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু
তেল আবিব, ইসরায়েল | ২০ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
ইরানের বর্তমান সরকার উৎখাতের প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
নেতানিয়াহুর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টা সম্পন্ন করতে ইসরায়েল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং সর্বশেষ সোমবারও তাঁদের মধ্যে কথা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
তাঁর এই বক্তব্য ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতিগত অবস্থান এবং দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের বিষয়ে আলাদা কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
ইসরায়েলে আকস্মিক সফরে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
এদিকে, সোমবার আকস্মিক সফরে ইসরায়েলে যান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সফরকালে তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইরান পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান জানান, দক্ষিণ নেগেভ মরুভূমি অঞ্চলের উভদা বিমানঘাঁটিতে হেগসেথের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
স্পিলম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলা এবং প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক সক্ষমতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ইরানকে ঘিরে ওয়াশিংটন-তেল আবিবের সমন্বয়
ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার কথা নেতানিয়াহুর প্রকাশ্য বক্তব্যে উঠে আসা এবং একই সময়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ইসরায়েল সফর—দুই দেশের নিরাপত্তা ও সামরিক সমন্বয়ের বিষয়টিকে সামনে এনেছে।
ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, তা আঞ্চলিক পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে নেতানিয়াহুর বক্তব্যে সরকার উৎখাতের প্রচেষ্টার কথা বলা হলেও, এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
আঞ্চলিক পরিস্থিতির দিকে নজর
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সামরিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।
এ বিষয়ে ওয়াশিংটন, তেল আবিব ও তেহরানের পক্ষ থেকে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশিত হলে দুই দেশের অবস্থান এবং সম্ভাব্য পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।









