ইরানের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধে জড়িয়ে বড় ধরনের ভুল করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প,কড়া সমালোচনা করলেন —সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা
ক্লিভল্যান্ড, ওহাইও, যুক্তরাষ্ট্র | ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, ট্রাম্প একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় ভুল হলো এমন একটি যুদ্ধ শুরু করা, যা কেউ চায়নি।
২৬ অক্টোবর শনিবার ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন ওবামা। সেখানে তিনি ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি, যুদ্ধ পরিচালনা এবং প্রশাসনের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে ভোট দিতে সমর্থকদের উদ্বুদ্ধ করা।
ইরান যুদ্ধকে বড় ভুল বললেন ওবামা
সমাবেশে ওবামা বলেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুলটি হলো এমন একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ শুরু করা, যার দাবি কেউ জানায়নি।
ওবামা ২০১৫ সালে তাঁর প্রশাসনের সময়ে ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ওই চুক্তির মাধ্যমে কূটনৈতিক আলোচনার সাহায্যে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ সীমিত রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাঁর মতে, সামরিক হামলার পরিবর্তে কূটনীতির মাধ্যমেই এ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব ছিল।
ওবামা আরও অভিযোগ করেন, ট্রাম্প ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি ও জ্বালানির দাম নিয়ে উদ্বেগ
ওবামার বক্তব্যে ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবও গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি বলেন, সংঘাতের কারণে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও মিত্রদের ওপর হামলা হয়েছে, বহু মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
তাঁর দাবি, যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমেছে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে জ্বালানি তেল ও ডিজেলের দামে।
হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এই পথে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারদরে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ওবামা এই পরিস্থিতির জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতিকে দায়ী করেছেন।
ট্রাম্পের পাল্টা আক্রমণ: ‘অযোগ্য প্রেসিডেন্ট’ ওবামা
ওবামার সমালোচনার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পাল্টা আক্রমণ করেন। সেখানে তিনি ওবামাকে ‘অত্যন্ত অযোগ্য প্রেসিডেন্ট’ বলে অভিহিত করেন।
ট্রাম্প ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তির সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, ওবামা প্রশাসন ইরানকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে কার্যত তুষ্ট করেছিল এবং দেশটিকে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছিল। তবে এগুলো ট্রাম্পের রাজনৈতিক অভিযোগ; তাঁর বক্তব্যে উত্থাপিত প্রতিটি দাবিকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই তীব্র
৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওবামা ওহাইওতে সিনেট প্রার্থী শেরড ব্রাউন এবং গভর্নর পদপ্রার্থী অ্যামি অ্যাক্টনের পক্ষে প্রচারণা চালান। একই দিনে তিনি মিশিগানেও ডেমোক্রেটিক প্রার্থীদের সমর্থনে বক্তব্য দেন।
ওবামা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি, অদক্ষতা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির অভিযোগও তোলেন। তাঁর বক্তব্যে ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি অভিবাসননীতি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তও উঠে আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে যুদ্ধ নিয়ে বিভাজন
ওবামার বক্তব্য এবং ট্রাম্পের পাল্টা প্রতিক্রিয়া ইরান যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিভাজন আরও স্পষ্ট করেছে। ডেমোক্রেটিক নেতারা যুদ্ধের কৌশল, অর্থনৈতিক ব্যয় এবং কূটনীতির বিকল্প নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প তাঁর ইরাননীতি ও ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে আসছেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই বিতর্ক ভোটারদের মনোভাব ও নির্বাচনী প্রচারণায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে যুদ্ধের প্রকৃত প্রভাব, জ্বালানি বাজারের গতিপ্রকৃতি এবং নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করবে আগামী দিনের পরিস্থিতি।
সূত্র: আল-জাজিরা, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), এএফপি এবং ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্ট।









