এবার সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে ইরান সামরিক হা'ম'লা চালাতে পারে -আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জোয়ে হুড
ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র | ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | The Global Journal
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও বিস্তৃত হয়ে ইরান সরাসরি মার্কিন ভূখণ্ডে হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিউনিসিয়ায় দায়িত্ব পালন করা সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জোয়ে হুড। আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সতর্ক করে বলেন, আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আকস্মিক কোনো হামলার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
হুডের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে। সামরিক পাল্টাপাল্টি হামলার পাশাপাশি কূটনৈতিক অচলাবস্থাও দুই দেশের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে আশঙ্কা
সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জোয়ে হুডের মতে, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের সংঘাতের ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা রয়েছে, যেখানে ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্টদের জন্য রাজনৈতিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
তার আশঙ্কা, ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময়কে কেন্দ্র করে ইরান এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে, যার রাজনৈতিক প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও পড়বে।
তবে হুডের বক্তব্যকে সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে দেখা হলেও, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন কোনো নিশ্চিত বা আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ্যে নেই। ফলে ছয় সপ্তাহের সময়সীমা একটি বিশ্লেষণাত্মক আশঙ্কা, নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি
বর্তমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সামরিক ঘাঁটি ও সম্পদ ইতোমধ্যে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে সংঘাতের ভৌগোলিক পরিধি আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান যদি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা চালায়, তাহলে বর্তমান সংঘাতের চরিত্র নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। ওয়াশিংটনের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপও সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার ঝুঁকি তৈরি করবে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে শুধু সামরিক নিরাপত্তা নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, বাণিজ্যিক যোগাযোগ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
কূটনীতিক সমাধানের সুযোগ দেখছেন হুড
সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন জোয়ে হুড। তার মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা না থাকলেও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
এ ক্ষেত্রে তিনি আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে মক্কা চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোকে সংকট নিরসনে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তার মতে, আঞ্চলিক দেশগুলো সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নিলে ওয়াশিংটন ও তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার একটি সম্ভাব্য পথ তৈরি হতে পারে।
আঞ্চলিক সংঘাত থেকে বৈশ্বিক সংকটের আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এর সঙ্গে যদি মার্কিন মূল ভূখণ্ডে সরাসরি হামলার মতো কোনো ঘটনা যুক্ত হয়, তাহলে ন্যাটো মিত্রদের অবস্থান, আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতিক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে সংঘাত নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হতে পারে সামরিক প্রতিশোধের মাত্রা কমিয়ে আঞ্চলিক মধ্যস্থতা ও কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ পুনরায় সক্রিয় করা।
তবে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে হামলার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা নিশ্চিত পরিকল্পনার কথা জানানো হয়নি। ফলে জোয়ে হুডের সতর্কবার্তাকে সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এটিকে ইরানের আসন্ন হামলার নিশ্চিত সংকেত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—সামরিক সংঘাতকে আরও বিস্তৃত হওয়া থেকে ঠেকানো এবং একই সঙ্গে একটি কার্যকর কূটনৈতিক পথ তৈরি করা, যাতে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত আরও বড় আন্তর্জাতিক সংকটে পরিণত না হয়।
— The Global Journal | ওয়াশিংটন | ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬





