ইরানের নতুন নিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মজতবা খামেনেই খুব ‘শান্তিতে থাকতে পারবেন না’ -মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | দ্য গ্লোবাল জার্নাল /ওয়াশিংটন | ১১ মার্চ, ২০২৬
ইরানের নতুন নিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মজতবা খামেনেইকে নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মনে করেন না যে, তেহরানের বর্তমান নেতৃত্ব ওয়াশিংটনের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে আসতে পারবে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি না তিনি (মজতবা খামেনেই) শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন।”
নেতৃত্ব নির্বাচনে ট্রাম্পের অসন্তোষ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইয়ের ছেলে মজতবা খামেনেইয়ের নিযুক্তিকে ট্রাম্প একটি “বড় ভুল” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া এই নেতৃত্ব দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারবে না। যদিও ইরান দাবি করছে তারা আলোচনায় আগ্রহী, তবে ট্রাম্প এই প্রস্তাবের শর্ত সাপেক্ষে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন।
অভিযানের নেপথ্যে ‘পারমাণবিক’ কারণ
ট্রাম্প দাবি করেছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির প্রথম আঘাতেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের প্রায় অর্ধেক ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি বলেন, “যদি আমরা আর তিন দিন অপেক্ষা করতাম, তবে হয়তো আমাদের ওপরেই আক্রমণ হতো।”
মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের দেওয়া তথ্যের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান:
ইরান দাবি করেছিল তাদের কাছে ১১টি পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য যথেষ্ট সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে।
এই তথ্যের কারণেই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া “অনিবার্য” হয়ে পড়েছিল।
প্রেসিডেন্টের ভাষায়, “তারা প্রকারান্তরে আমাকে আক্রমণ করতেই বাধ্য করেছিল।”
রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও পাল্টা হামলা
২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ১,২০০-এর বেশি মানুষ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ওই হামলাতেই তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর জবাবে ইরান ইতোমধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েল, জর্ডান এবং ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে, এই পাল্টা হামলায় এ পর্যন্ত ৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা
হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তেল পরিবহনে কোনো বাধা সৃষ্টি হলে ইরানকে অভাবনীয় পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।





