Breaking
রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন'কে প্রশংসায় ভাসিয়ে ৭৪তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন উত্তর কোরিয়ার নেতা -কিম জং উন

রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন'কে প্রশংসায় ভাসিয়ে ৭৪তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন উত্তর কোরিয়ার নেতা -কিম জং উন

Share:

Written By

News Desk

রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন'কে প্রশংসায় ভাসিয়ে ৭৪তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন উত্তর কোরিয়ার নেতা -কিম জং উন

মস্কো, রাশিয়া | ৭ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ৭৪তম জন্মদিনে তাকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। শুভেচ্ছাবার্তায় পুতিনের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি রাশিয়ার জন্য ‘বিজয় ও গৌরব’ কামনা করেছেন তিনি।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (KCNA) প্রকাশিত টেলিগ্রাম বার্তায় কিম জং উন পুতিনকে তার ‘অত্যন্ত প্রিয় বন্ধু’ ও ‘কমরেড’ হিসেবে উল্লেখ করেন। বার্তায় কিম বলেন, “আমার অত্যন্ত প্রিয় বন্ধু, কমরেড ভ্লাদিমির পুতিন, আপনার গুরুত্বপূর্ণ জন্মদিন উপলক্ষে আমার আন্তরিক ও উষ্ণ অভিনন্দন এবং শুভকামনা গ্রহণ করুন।”

পুতিনের নেতৃত্বের প্রশংসা কিমের

কিম জং উন বলেন, গত ২০ বছরে পুতিনের ‘দক্ষ ও অসাধারণ নেতৃত্বে’ রাশিয়া একটি রাষ্ট্র হিসেবে তার অবস্থান শক্তিশালী করেছে এবং বিশ্বের কাছে নিজেকে একটি ‘শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দেশ’ হিসেবে তুলে ধরেছে।

তিনি আরও দাবি করেন, রুশ প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার জনগণের ব্যাপক আস্থা ও সমর্থন উপভোগ করছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে কিম বলেন, রাশিয়া “অবশ্যই এই ন্যায়সঙ্গত ও পবিত্র যুদ্ধে বিজয়ী হবে” এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা স্বার্থ ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করবে।

রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া কৌশলগত অংশীদারত্ব

শুভেচ্ছাবার্তায় কিম জং উন রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ সম্পর্ক ও সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্বের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুই দেশের এই অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সামরিক সরঞ্জাম, গোলাবারুদ এবং জনবল সহায়তা নিয়ে দুই দেশের সহযোগিতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রাশিয়াকে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সহায়তার অভিযোগ

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে ১ কোটি ২০ লাখেরও বেশি গোলাবারুদ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে।

এ ছাড়া, একই তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে প্রায় ১৩ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। তাদের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে এসব পরিসংখ্যানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

সামরিক সহযোগিতার অর্থনৈতিক মূল্য

ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে রাশিয়াকে সামরিক সহায়তা দিয়ে উত্তর কোরিয়া প্রায় ১৪.০২ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে বলে অনুমান করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৪৯ মিলিয়ন ডলার উত্তর কোরিয়ার সামরিক personnel সরবরাহের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ওই হিসাব উল্লেখ করে।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এর আগে দাবি করেছিলেন, উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার ভূখণ্ডে ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে।

ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার ভোরোনেজ অঞ্চলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। ওই ইউনিটে ছয়টি লঞ্চার এবং প্রায় ১২০টি ক্ষেপণাস্ত্র থাকার কথা বলা হয়েছে।

KN-23 ও KN-24 ক্ষেপণাস্ত্র নিয়েও দাবি

কিয়েভের দাবি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে ৪০টি স্বল্পপাল্লার KN-23 ও KN-24 ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে।

জুলাইয়ের শেষ দিকে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে হামলায় এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে।

উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক সহযোগিতার এসব অভিযোগ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো এবং ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। অন্যদিকে মস্কো ও পিয়ংইয়ং তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নিজেদের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত ও কৌশলগত অংশীদারত্বের অংশ হিসেবে তুলে ধরছে।

৭৪তম জন্মদিনে একাধিক বিশ্বনেতার শুভেচ্ছা

বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ভ্লাদিমির পুতিন তার ৭৪তম জন্মদিন উদযাপন করছেন। এ উপলক্ষে তিনি বিভিন্ন দেশের নেতাদের কাছ থেকে শুভেচ্ছা পেয়েছেন।

শুভেচ্ছা জানানো নেতাদের মধ্যে রয়েছেন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

কিম জং উনের এবারের বার্তায় পুতিনের ব্যক্তিগত নেতৃত্বের প্রশংসার পাশাপাশি রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত করার প্রত্যয়ও স্পষ্ট হয়েছে। এর ফলে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মস্কো-পিয়ংইয়ং ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনায় উঠে এসেছে।