দুবাই থেকে ইসরায়েল গামী ফ্লাইটে হা’মলায় ইরানের সম্পৃক্ততার বিষয়ে যে মন্তব্য করল - প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু
তেল আবিব, ইসরায়েল | ১ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে পাইলটকে ছুরিকাঘাত এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় ইরানের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা এখনই বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
ফক্স নিউজের ‘Fox & Friends’ অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহুকে এ ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা বলার জন্য এখনও খুব তাড়াতাড়ি।” তিনি জানান, অভিযুক্ত হামলাকারী বর্তমানে সৌদি আরবে তদন্তের মুখোমুখি এবং পরে তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হস্তান্তর করা হতে পারে।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 ফ্লাইটে। দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে উড্ডয়নের পর বিমানের ককপিটে এক পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরিকাঘাত করেন বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ঘটনার সময় বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারায়। যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা পরে হামলাকারীকে পরাস্ত করতে সক্ষম হন এবং বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।
ছুরিকাহত ভারতীয় পাইলটকে ‘নায়ক’ বললেন নেতানিয়াহু ও মোদি
হামলায় আহত ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে তার সাহসিকতার জন্য প্রশংসা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
নেতানিয়াহুর বক্তব্য অনুযায়ী, গুরুতর আহত হওয়ার পরও মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এর ফলে যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করে অভিযুক্ত হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও মাচ্ছারের সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেছেন, গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি অন্যদের জীবন রক্ষায় দৃঢ়তা ও সাহস দেখিয়েছেন। মাচ্ছারের অবস্থা স্থিতিশীল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

অভিযুক্ত হামলাকারীর উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত
ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। নেতানিয়াহু আলাদাভাবে দাবি করেছেন যে অভিযুক্ত সহ-পাইলট ‘ইসলামপন্থী উগ্রবাদী মতাদর্শে দীক্ষিত’ হয়েছিলেন। তবে তার এই বক্তব্যের পাশাপাশি তদন্ত এখনো চলমান এবং হামলাকারীর উদ্দেশ্য ও কোনো সংগঠন বা দেশের সঙ্গে তার সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়টি তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেলও ঘটনার পরিস্থিতি ও উদ্দেশ্য তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা পূর্বপরিকল্পনার সঙ্গে ঘটনার যোগসূত্র ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, হামলাকারী একাই কাজ করে থাকতে পারেন—তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার উদ্দেশ্য বা সম্ভাব্য যোগাযোগ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
যাত্রীদের হস্তক্ষেপে রক্ষা পায় বিমান
ঘটনার সময় যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুনসহ কয়েকজন যাত্রী হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে আসেন। হায়ুন জানান, তিনি হামলাকারীকে গলা চেপে ধরে রাখেন এবং অন্য যাত্রীরা তাকে আটকে রাখতে সহায়তা করেন।
পরে বিমানে থাকা অন্য পাইলটরা নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করান। বিমানে থাকা ১৭৪ জন যাত্রীর সবাই নিরাপদে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ দেশটিতে আসা সব বিমানের পাইলটদের নিরাপত্তা যাচাই আরও কঠোর করার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে। ফ্লাইদুবাইও তদন্ত চলাকালে ইসরায়েলগামী ও ইসরায়েল থেকে পরিচালিত ফ্লাইট স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
এখন পর্যন্ত ইরানের সম্পৃক্ততার কোনো নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে এ বিষয়ে নেতানিয়াহুর বক্তব্যও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত একটি অনির্ধারিত প্রশ্ন হিসেবেই থাকছে।
সূত্র: Reuters, BBC, CBS News ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবৃতি।





