Breaking
পাকিস্তানে শুক্রবার পবিত্র জুম্মার নামাজের সময় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের -কোহাটে মসজিদের কাছে বিস্ফোরণে ৫জন পুলিশ সদস্যসহ নিহত ১৬জন -আহত অন্তত ৫৪ জন

পাকিস্তানে শুক্রবার পবিত্র জুম্মার নামাজের সময় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের -কোহাটে মসজিদের কাছে বিস্ফোরণে ৫জন পুলিশ সদস্যসহ নিহত ১৬জন -আহত অন্তত ৫৪ জন

Share:

Written By

News Desk

পাকিস্তানে শুক্রবার পবিত্র জুম্মার নামাজের সময় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের -কোহাটে মসজিদের কাছে বিস্ফোরণে ৫জন পুলিশ সদস্যসহ নিহত ১৬জন -আহত অন্তত ৫৪ জন

কোহাট, পাকিস্তান | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাট শহরে জুমার নামাজের সময় একটি মসজিদের কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

শুক্রবার কোহাটের ওল্ড পুলিশ লাইনস এলাকায় মসজিদের কাছে এ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয় এবং আহতদের কোহাটের ডিস্ট্রিক্ট হেডকোয়ার্টার্স (DHQ) হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে।

বিস্ফোরণে মসজিদ ও পুলিশ লাইনস ক্ষতিগ্রস্ত

প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় মসজিদের বাইরের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একটি দেয়াল ধসে পড়ে। বিস্ফোরণের স্থানে একটি গর্তও তৈরি হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

খাইবার পাখতুনখোয়ার পুলিশ প্রধান জুলফিকার হামিদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি ওল্ড পুলিশ লাইনসের গেটে আঘাত করার পর বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের কাছে আরেক হামলাকারী আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায় বলে তিনি জানিয়েছেন।

তবে হামলার প্রাথমিক বিবরণে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে বিস্ফোরকবোঝাই গাড়িকে প্রধান বিস্ফোরণের উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, আবার কর্মকর্তাদের পরবর্তী বক্তব্যে আত্মঘাতী হামলাকারীর কথাও বলা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ ও হামলাকারীদের মধ্যে গোলাগুলি

বিস্ফোরণের পর পুলিশ ও সশস্ত্র হামলাকারীদের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুলিশ লাইনস এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে।

পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ হামলার সঙ্গে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (TTP)-এর সম্পৃক্ততার সন্দেহ প্রকাশ করেছে। পাকিস্তান সরকার TTP-কে বোঝাতে ‘ফিতনা-উল-খাওয়ারিজ’ শব্দটি ব্যবহার করে। তবে হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

খাইবার পাখতুনখোয়ায় বাড়ছে সহিংসতা

কোহাটের এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সশস্ত্র সহিংসতা ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা বেড়েছে। TTP সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী ও বেসামরিকদের লক্ষ্য করে হামলা বাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কোহাটের বিস্ফোরণের নিন্দা জানিয়েছেন এবং হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুততর করার নির্দেশ দিয়েছেন।

কোহাটে অতীতেও প্রাণঘাতী হামলা

কোহাট ও এর আশপাশের এলাকায় অতীতেও সশস্ত্র হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ২০১০ সালে কোহাটের পুলিশ লাইনের কাছে একটি বিস্ফোরণে অন্তত ২০ জন নিহত এবং ৯০ জনের বেশি আহত হয়েছিল।

বর্তমান হামলার পরও নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে এবং হতাহতদের উদ্ধারের পাশাপাশি হামলার প্রকৃতি ও দায়ীদের বিষয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

এজেন্সির তথ্যসহ

সর্বশেষ আপডেট