Breaking
গভীর সংকটের মুখে পড়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী,পদত্যাগ করেছেন শীর্ষ পর্যায়ের বেশ  কয়েকজন কমান্ডার -দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

গভীর সংকটের মুখে পড়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী,পদত্যাগ করেছেন শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন কমান্ডার -দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

Share:

Written By

News Desk

গভীর সংকটের মুখে পড়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী,পদত্যাগ করেছেন শীর্ষ পর্যায়ের বেশ  কয়েকজন কমান্ডার -দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

— গ্লোবাল জার্নাল | তেহরান, ইরান | ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন সামরিক বাহিনী বর্তমানে একাধিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের মুখে রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি। প্রতিবেদনে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, শীর্ষ পর্যায়ের কমান্ড কাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তন, কর্মকর্তাদের পদত্যাগ, পদোন্নতি আটকে দেওয়া এবং অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো মার্কিন সামরিক সক্ষমতা ও কমান্ড কাঠামোর স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও হোয়াইট হাউস ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা গিয়েছিল। তবে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান প্রশাসনের সময়ে সামরিক কমান্ড কাঠামোয় পরিবর্তন ও উত্তেজনার মাত্রা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। ২০ জনেরও বেশি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া এবং কয়েক ডজন কমান্ডারের পদোন্নতি আটকে রাখার ঘটনাও এ উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

শীর্ষ পর্যায়ে পদত্যাগ ও কমান্ড কাঠামোর চাপ

মার্কিন সেনাবাহিনীর সচিব ড্যান ড্রিসকলের পদত্যাগ সাম্প্রতিক উত্তেজনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। মার্কিন যুদ্ধবিষয়ক সচিব পিট হেগসেথের সঙ্গে মতপার্থক্যের পর ড্রিসকল পদ ছাড়েন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সামরিক বাহিনীর শক্তি শুধু বিমান, যুদ্ধজাহাজ, ট্যাংক বা ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নির্ভর করে না। অভিজ্ঞ কমান্ডার, বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের পারস্পরিক আস্থাও যুদ্ধক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ইরান যুদ্ধ বাড়াচ্ছে মার্কিন সামরিক চাপ

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা এই চাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে প্রতিবেদনে একই সঙ্গে স্বীকার করা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র এখনো প্রযুক্তি, বিমান ও নৌশক্তি, গোয়েন্দা সক্ষমতা, মহাকাশ শক্তি ও লজিস্টিক সক্ষমতার দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী—এবং সামগ্রিকভাবে সবচেয়ে সক্ষম—সামরিক শক্তি। মূল উদ্বেগ হলো, কোনো দেশের সামরিক সম্পদই সীমাহীন নয়।

এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অস্ত্রের মজুত।

৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যয়ই পুরো চিত্র নয়

হোয়াইট হাউসের হিসাবে যুদ্ধের সরাসরি ব্যয় প্রায় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার হলেও প্রকৃত ব্যয় আরও বেশি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ব্যবহৃত গোলাবারুদ প্রতিস্থাপন, ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম মেরামত, দীর্ঘমেয়াদি সেনা মোতায়েন এবং সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের ব্যয় এই হিসাবের বাইরে থাকতে পারে।

যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নির্ভুল-নির্দেশিত অস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত কমে আসা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তা ও মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ইউরোপ ও এশিয়ার জন্যও প্রস্তুতি রাখতে হবে ওয়াশিংটনকে

মার্কিন সামরিক মজুতের ওপর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে ওয়াশিংটনের বৈশ্বিক দায়িত্ব। যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, একই সঙ্গে ইউরোপ, ইন্দো-প্যাসিফিক ও বিশ্বের অন্যান্য সম্ভাব্য সংকটের জন্যও সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে হয়।

ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবহৃত প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র এমন একটি মজুত কমিয়ে দেয়, যা ভবিষ্যতে অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হতে পারে।

এই বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিপুলসংখ্যক সেনা, বিমান, যুদ্ধজাহাজ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে ওই অঞ্চলে আটকে রাখতে হতে পারে। এতে অন্য অঞ্চলে দ্রুত সামরিক প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এশিয়ার মিত্রদের কাছেও এটি রাজনৈতিক সংকেত

মার্কিন সামরিক সক্ষমতার এই চাপ এশিয়ার মিত্রদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তারা শুধু ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বাস্তব সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্রের হাতে কত বিমান, যুদ্ধজাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে এবং কত দ্রুত সেগুলো এশিয়ায় মোতায়েন করা সম্ভব—সেটিও বিবেচনা করে।

ফলে সামরিক মজুত কমে যাওয়া ভবিষ্যতে কেবল প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার নয়, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক আস্থারও বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

যুদ্ধ দীর্ঘ হলে বাড়বে পুনর্গঠন ব্যয়

যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠন ও সামরিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রকে তত বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে। এর ফলে প্রতিরক্ষা বাজেটের ওপর চাপ বাড়তে পারে, অস্ত্রের নতুন অর্ডার প্রয়োজন হতে পারে এবং কিছু সামরিক মজুত যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে ফিরিয়ে নিতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

তবে চাপ শুধু সরঞ্জামের ওপর নয়। অভিজ্ঞ জনবল ও কমান্ড কাঠামোও সামরিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একাধিক অঞ্চলে একই সঙ্গে প্রস্তুতি ধরে রাখতে দক্ষ নেতৃত্ব এবং স্থিতিশীল কমান্ড চেইন প্রয়োজন।

‘সীমাহীন মার্কিন শক্তি’ নিয়ে নতুন বিতর্ক

এই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিকে সরাসরি শেষ করে দিয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। বরং যুদ্ধটি দেখিয়েছে যে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীরও সম্পদ, জনবল, অস্ত্রের মজুত ও সময়ের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

সামরিক শক্তি কেবল যুদ্ধ শুরু করার সক্ষমতা নয়; দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া, ব্যবহৃত অস্ত্র পুনরায় পূরণ করা, বাহিনীর প্রস্তুতি বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকা—এসবও সামরিক শক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

যুক্তরাষ্ট্র যদি একটি অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক চাপ সামলাতে গিয়ে অন্য অঞ্চলে নিজের প্রস্তুতি কমাতে বাধ্য হয়, তাহলে একটি আঞ্চলিক সংঘাত বৃহত্তর বৈশ্বিক কৌশলগত সমস্যায় পরিণত হতে পারে।

এই কারণেই ইরান যুদ্ধের প্রকৃত কৌশলগত প্রভাব হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি দৃশ্যমান হবে না। বরং আগামী কয়েক বছরে অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠন, সামরিক নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাস এবং একই সঙ্গে একাধিক আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তার মধ্য দিয়ে এর প্রকৃত মূল্যায়ন আরও স্পষ্ট হতে পারে।

— গ্লোবাল জার্নাল | তেহরান, ইরান | ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট