Breaking
দক্ষিণ সৌদি আরবের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হা'ম'লা -দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথিরা

দক্ষিণ সৌদি আরবের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হা'ম'লা -দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথিরা

Share:

Written By

News Desk

দক্ষিণ সৌদি আরবের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হা'ম'লা -দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথিরা

সানা, ইয়েমেন | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা দাবি করেছে, দক্ষিণ সৌদি আরবের খামিস মুশাইত এলাকায় অবস্থিত কিং খালিদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে বড় ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। সোমবারের এই হামলা ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলার জবাবে চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।

হুথিদের দাবি অনুযায়ী, বিমানঘাঁটির হ্যাঙ্গার, রাডার, রানওয়ে ও গোলাবারুদের ডিপোসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়। হামলায় বিমানঘাঁটিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা। তবে এসব ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

৩০০টির বেশি সৌদি বিমান হামলার দাবি

হুথিরা বলছে, ইয়েমেনে গত পাঁচ দিনে সৌদি আরবের চালানো ৩০০টিরও বেশি বিমান হামলার জবাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, খামিস মুশাইত ও তাইফ বিমানঘাঁটি থেকে সৌদি এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান এসব হামলায় অংশ নেয়।

তবে হুথিদের উল্লেখ করা ৩০০টির বেশি বিমান হামলার সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

গোষ্ঠীটি আরও সতর্ক করেছে, ইয়েমেনে সৌদি হামলা অব্যাহত থাকলে সৌদি ভূখণ্ডে আরও বড় ধরনের হামলা চালানো হবে।

এর আগে গত সপ্তাহে খামিস মুশাইত এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছিল হুথিরা। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, ওই হামলায় ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হন এবং কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন লাগে।

লোহিত সাগরের কৌশলগত এলাকায় হুথিদের অগ্রগতি

হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কাছেও হুথিদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ার দাবি করা হয়েছে।

ইয়েমেনি সরকারি ও হুথি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হুথিরা গ্রেটার হানিশ ও লেসার হানিশ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে। দ্বীপ দুটি কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালির উত্তরে অবস্থিত।

এর আগে পশ্চিম ইয়েমেনের উপকূলীয় অঞ্চলে অগ্রসর হয়ে মোখা ও মায়ুন দ্বীপ, যা পেরিম নামেও পরিচিত, নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছিল হুথিরা।

ইয়েমেনি সামরিক সূত্রগুলোর মতে, সরকারি বাহিনী ওই এলাকার কিছু অবস্থান থেকে সরে যাওয়ার পর হুথিরা হানিশ দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হয়।

আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন উদ্বেগ

কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি এবং লোহিত সাগরের কৌশলগত এলাকাগুলোতে হুথিদের অগ্রগতি ইয়েমেন-সৌদি সংঘাতের নতুন মাত্রা তুলে ধরছে।

বিশেষ করে বাব আল-মান্দাব প্রণালি ও লোহিত সাগর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হওয়ায় এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে হুথিদের হামলা ও ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত দাবিগুলোর কয়েকটির স্বাধীনভাবে যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।