প্রস্তুত হোন,এবার দেশে ফিরতে হবে সবাইকে,কর্মীদের মাঠে নামার প্রস্তুতির নির্দেশ। -আওয়ামী'লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
ঢাকা, বাংলাদেশ | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে নেতাদের উদ্দেশে সুস্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি বলেন, “মানসিক এবং অন্যান্য প্রস্তুতি নিন। এবার সবাইকে দেশে ফিরতে হবে। নামতে হবে দেশের ময়দানে।
বাংলাদেশের নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নির্ধারণে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের (ওয়ার্কিং কমিটি) এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানীতে এক প্রেসিডিয়াম সদস্যের বাসভবনে চরম গোপনীয়তার মধ্যে এ বৈঠক হয়। এতে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দলীয় সূত্র জানায়, বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে নেতাদের উদ্দেশে সুস্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি বলেন, “মানসিক এবং অন্যান্য প্রস্তুতি নিন। এবার সবাইকে দেশে ফিরতে হবে। নামতে হবে দেশের ময়দানে।” তার এ বক্তব্যকে দল পুনর্গঠনের প্রস্তুতি ও রাজপথে সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।

বৈঠকে ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মাঠপর্যায়ের অবস্থা তুলে ধরেন। কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা, যারা কমিটির সদস্য নন, তারাও উপস্থিত থেকে ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে মতামত দেন।
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন ছিল বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। শেখ হাসিনা নির্বাচনকে “প্রহসন ও সাজানো নাটক” বলে আখ্যা দেন। তিনি দাবি করেন, দলের ভোট বর্জনের আহ্বানে জনগণ ব্যাপক সাড়া দিয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ৬০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির হিসাব বাস্তবসম্মত নয়।
দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভূমিকার সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, কেউ কেউ দেশে ভালো নির্বাচনের কথা বললেও বিদেশে গিয়ে ভিন্নধর্মী প্রতিবেদন দিয়েছেন। তিনি নেতাদের নির্দেশ দেন, কেন এই নির্বাচন প্রহসন—তার প্রমাণ ও বিশ্লেষণ জনগণের সামনে তুলে ধরতে।
দলের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গও বৈঠকে উঠে আসে। শেখ হাসিনা এ নিষেধাজ্ঞাকে “সম্পূর্ণ অবৈধ” দাবি করে বলেন, আওয়ামী লীগ এমন কোনো অপরাধ করেনি যার ভিত্তিতে সন্ত্রাস দমন আইনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা যায়। একই সঙ্গে তিনি ড. Muhammad Yunus-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে “অবৈধ” আখ্যা দিয়ে তাদের নির্দেশের আইনগত বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার দ্রুতই এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। তবে তা না হলে দল নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজপথের কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলেও স্পষ্ট জানান।
দলের একাধিক নেতা মনে করছেন, সভাপতির দেশে ফেরার প্রস্তুতির নির্দেশ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শিগগিরই কোনো পরিবর্তন আসতে পারে। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- [x] কলামিস্ট -ফজলে রাব্বী রবনা



