Breaking
জেফ্রি এপস্টাইন নথি তদন্তে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও তাঁর স্ত্রী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন

জেফ্রি এপস্টাইন নথি তদন্তে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও তাঁর স্ত্রী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন

লিড নিউজ2/3/2026
Share:

Written By

News Desk

জেফ্রি এপস্টাইন নথি তদন্তে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও তাঁর স্ত্রী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন

ওয়াশিংটন | ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | The Global Journal

প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসীয় তদন্তে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং তাঁর স্ত্রী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। কয়েক মাস ধরে চলা রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েনের পর এই সিদ্ধান্তকে তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

এই সম্মতি আসে এমন এক সময়ে, যখন হাউস ওভারসাইট কমিটির সামনে হাজির না হওয়ায় ক্লিনটন দম্পতিকে কংগ্রেস অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত করার বিষয়ে ভোট হওয়ার কথা ছিল। রিপাবলিকানদের নেতৃত্বাধীন কমিটি গত মাসের শেষ দিকে এই প্রস্তাব অনুমোদন করে, যেখানে কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সদস্যও সমর্থন দেন।

বিল ক্লিনটনের সঙ্গে একসময় জেফ্রি এপস্টাইনের পরিচয় থাকলেও তিনি বরাবরই এপস্টাইনের যৌন অপরাধ সম্পর্কে কোনো জ্ঞান থাকার কথা অস্বীকার করে আসছেন। তাঁর দাবি, প্রায় দুই দশক আগেই তিনি এপস্টাইনের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ ছিন্ন করেন। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে কারাগারে এপস্টাইনের মৃত্যু হয়।

এখনো নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি কবে ক্লিনটন দম্পতির জবানবন্দি গ্রহণ (ডিপোজিশন) অনুষ্ঠিত হবে। তবে সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হলে এটি হবে ১৯৮৩ সালে জেরাল্ড ফোর্ডের পর প্রথমবার কোনো সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের কংগ্রেসীয় কমিটির সামনে হাজিরা।

সোমবার সন্ধ্যায় বিল ক্লিনটনের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ অ্যাঞ্জেল উরেনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ক্লিনটন দম্পতি সদিচ্ছার সঙ্গে কমিটির সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং শপথ নিয়ে তাঁদের জানা তথ্য ইতোমধ্যেই সরবরাহ করেছেন। তবুও, তাঁরা কমিটির সামনে উপস্থিত হয়ে এমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চান, যা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।

ক্লিনটন দম্পতির দাবি, তাঁরা আগেই শপথযুক্ত লিখিত বিবৃতি জমা দিয়েছেন এবং এপস্টাইন সম্পর্কে তাঁদের কাছে থাকা সীমিত তথ্যই দিয়েছেন। তাঁদের মতে, আইনি সমন জারির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং এটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিব্রত করার একটি প্রচেষ্টা।

এপস্টাইনের নির্যাতনের শিকারদের কেউই বিল ক্লিনটনের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ তোলেননি। তবে এপস্টাইনের ব্যক্তিগত জেট বিমানের নথি অনুযায়ী, ২০০২ ও ২০০৩ সালে ক্লিনটন চারবার আন্তর্জাতিক সফরে এপস্টাইনের বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিতে এপস্টাইনের মালিকানাধীন সম্পত্তিতে তোলা কিছু ছবিতে বিল ক্লিনটনকে দেখা যায়। কংগ্রেসের নির্দেশে এপস্টাইন-সংক্রান্ত সব তদন্ত নথি জনসমক্ষে প্রকাশের অংশ হিসেবেই এসব ছবি প্রকাশ করা হয়। ক্লিনটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ছবিগুলো বহু বছর আগের এবং এপস্টাইনের অপরাধ প্রকাশ্যে আসার আগেই তোলা।

এর আগে, ক্লিনটন দম্পতি হাউস ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কমারকে পাঠানো এক চিঠিতে এপস্টাইন তদন্ত পরিচালনার ধরন নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁদের অভিযোগ, সরকারের ভূমিকা নিয়ে সত্য উদঘাটনের পরিবর্তে তদন্তে দলীয় রাজনীতিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, চেয়ারম্যান জেমস কমার বলেন, ক্লিনটন দম্পতির বিরুদ্ধে সমন জারির সিদ্ধান্ত দ্বিদলীয় ভোটে গৃহীত হয়েছে এবং “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়” — এই নীতিতে তিনি অটল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্লিনটনের আইনজীবী দল দীর্ঘদিন ধরে সময়ক্ষেপণ করে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ক্লিনটন দম্পতির সাক্ষ্য শুধু এপস্টাইন তদন্তেই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক জবাবদিহি, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং কংগ্রেসের তদারকি ক্ষমতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।