ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দিনের সফরে ইসরায়েলে পৌঁছেছেন,বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী সারা নেতানিয়াহু
জেরুজালেম | বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দিনের সরকারি সফরে ইসরায়েলে পৌঁছেছেন। বুধবার জেরুজালেমে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার স্ত্রী সারা নেতানিয়াহু। বিমানবন্দরে দুই নেতার আন্তরিক আলিঙ্গন দুই দেশের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে দুই নেতার “ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক” এবং “গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব”-এর প্রশংসা করেছে। সফরের মূল লক্ষ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও জোরদার করা।
ঐতিহাসিকভাবে ভারত ফিলিস্তিনিদের সমর্থন করে এলেও ১৯৯২ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এরপর থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে উন্নত হয়েছে। ২০১৭ সালে মোদি প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরায়েল সফর করেন; পরের বছর নেতানিয়াহু ভারত সফর করেন।
গাজা যুদ্ধ (অক্টোবর ২০২৩) শুরুর পর অনেক মিত্র দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দিলেও, বিশ্লেষকদের মতে মোদির এই সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের কূটনৈতিক অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
সফরকালে মোদি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন। তিনি ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট-এ ভাষণ দেবেন এবং হলোকাস্ট স্মৃতিসৌধ ইয়াদ ভাশেম পরিদর্শন করবেন। নেতানিয়াহুর দপ্তর জানিয়েছে, সফরকালে অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

তেল আবিবে অবতরণের আগে মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “আমাদের দেশগুলোর মধ্যে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে। গত কয়েক বছরে এই সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে।”
ভারত বর্তমানে এশিয়ায় ইসরায়েলের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে দুই দেশের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৩.৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
রবিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অর্থনীতি ও নিরাপত্তার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিংসহ প্রযুক্তি সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পাবে। তিনি এক্স-এ লিখেছেন, “আমরা উদ্ভাবন, নিরাপত্তা ও অভিন্ন কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে অংশীদার। একসঙ্গে আমরা স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দেশগুলোর একটি অক্ষ গড়ে তুলছি।”
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর মোদি ইসরায়েলের প্রতি দ্রুত সংহতি প্রকাশকারী প্রথম দিকের বিশ্বনেতাদের একজন ছিলেন। তবে একই সঙ্গে, চলতি মাসের শুরুতে দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নতুন পদক্ষেপের নিন্দা জানানো শতাধিক দেশের মধ্যে ভারতও ছিল—যা নয়াদিল্লির ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থানের ইঙ্গিত বহন করে।





