আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রথম নারী ভিপি নির্বাচিত হয়ে ১০৫ বছরের নতুন ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় মুসলিম তরুণী নাশরা নাইম
আলিগড়, উত্তর প্রদেশ, ভারত | ৬ নভেম্বর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
ভারতের ঐতিহ্যবাহী আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের (এএমইউ) ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদে বিজয়ী হয়ে ১০৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়েছেন মুসলিম তরুণী নাশরা নাইম। একই নির্বাচনে ১৩টি পদের মধ্যে ছয়টিতে নারী প্রার্থীদের জয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। ফলাফল অনুযায়ী, সহসভাপতি পদে নাশরা নাইম ৭ হাজার ৯১টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৫ হাজার ৮১৮টি ভোট। ফলে উল্লেখযোগ্য ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
এবারের নির্বাচনে কার্যনির্বাহী কমিটির ১০টি সদস্য পদের মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক পাঁচটিতে বিজয়ী হয়েছেন নারী প্রার্থীরা। সহসভাপতি পদে নাশরা নাইমের বিজয়সহ মোট ১৩টি পদের মধ্যে ছয়টিতে নারীদের জয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে নারী নেতৃত্ব ও প্রতিনিধিত্বের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, ছাত্র সংসদের সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন মোহাম্মদ নোমান আশরাফ। তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৪ হাজার ১০০টিরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ হামদান।
এএমইউ ছাত্র সংসদ ও বিশ্ববিদ্যালয় কোর্ট নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা অধ্যাপক জাভেদ তালিব এবং উইমেনস কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা অধ্যাপক নাজিয়া হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের টানা তিন বছরের আন্দোলনের মুখে দীর্ঘ আট বছর বিরতির পর অনুষ্ঠিত হয়েছে এবারের ছাত্র সংসদ নির্বাচন। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে নির্বাচনটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান ‘জেন জি’ বা নতুন প্রজন্মের আন্দোলনের প্রভাবও এবারের নির্বাচনে প্রতিফলিত হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, আগের বছরগুলোর মতো এবার নির্বাচনি প্রচারণা শুধু ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক দাবি-দাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং ভারতের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মুসলিম সম্প্রদায়সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ও শিক্ষার্থীদের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নাইমা খাতুন। তিনি এবারের নির্বাচনকে প্রতিষ্ঠানের ‘উচ্চ গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেন। পাশাপাশি নির্বাচনে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ক্রমবর্ধমান প্রতিনিধিত্বকে স্বাগত জানিয়ে নারী ক্ষমতায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্বাচনি প্রচারণা থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত কোথাও কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।
নাশরা নাইমের এই বিজয় শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অর্জন নয়; বরং আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ছাত্ররাজনৈতিক ইতিহাসে নারীদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।









