ঘুষ, জালিয়াতি, নিষিদ্ধ সফটওয়্যার ব্যবহার এবং সহিংসতার মাধ্যমে নির্বাচনি ফল প্রভাবিত করেছে আরব দলগুলো -অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু
জেরুজালেম, ইসরায়েল | ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ঘুষ, জালিয়াতি, নিষিদ্ধ সফটওয়্যারের ব্যবহার এবং সহিংসতার মাধ্যমে নির্বাচনি ফল প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দেশটির আরব রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াশিংটন টাইমস।
নেতানিয়াহুর দাবি, আরব অধ্যুষিত কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি অনিয়মের পক্ষে তাঁর দলের কাছে শত শত প্রমাণ ও সাক্ষ্য রয়েছে। এসব তথ্য ইসরায়েলের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট আরব দলগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ নেই।
পুলিশ ও শিন বেটের কাছে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি
নেতানিয়াহু বলেছেন, নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে তাঁর দল ইসরায়েলি পুলিশ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেটের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
তিনি দাবি করেছেন, তাঁর দলের কাছে আরব রাজনৈতিক দল রা’আমের প্রতীকযুক্ত নগদ অর্থভর্তি খাম, ভোটকক্ষে একাধিকবার ভোট দেওয়ার ঘটনা এবং একাধিক পরিচয় ব্যবহার করে ভোট দেওয়ার প্রমাণ রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, এসব কর্মকাণ্ড ইসরায়েলের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং নাগরিকদের ভোটাধিকারকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাঁর মতে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
তবে অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ জমা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর সত্যতা কতটা এবং নির্বাচনের ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হতে পারে।

লিকুদ নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন
সরবরাহ করা নির্বাচনি হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে, তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক প্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসনসংখ্যা ১২০। সরকার গঠন করতে কোনো দল বা জোটকে অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন নিশ্চিত করতে হয়। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে ছোট দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সরকার গঠনে আরব দলগুলোর ভূমিকা
প্রদত্ত তথ্যে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে আরব রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেয়েছে। এই আসনসংখ্যা সরকার গঠনের আলোচনায় তাদের সম্ভাব্য প্রভাব বাড়াতে পারে।
তবে আরব দলগুলো এককভাবে বা জোটবদ্ধ হয়ে কাকে সমর্থন করবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী রাজনৈতিক আলোচনা ও দলগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর। নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগ এবং সরকার গঠনের সমীকরণ পৃথক বিষয়। তদন্তের ফলাফল ছাড়া অভিযোগকে কোনো দলের আসনসংখ্যা বা নির্বাচনি অবস্থানের ব্যাখ্যা হিসেবে ধরে নেওয়া সমীচীন নয়।
নির্বাচনি অভিযোগের পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
নেতানিয়াহুর অভিযোগের পর এখন নজর থাকবে ইসরায়েলি পুলিশ ও শিন বেটের সম্ভাব্য তদন্তের দিকে। অভিযোগের পক্ষে জমা দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে কি না, কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে কি না এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
একই সঙ্গে অভিযুক্ত দলগুলোর প্রতিক্রিয়া এবং নির্বাচনি কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নও বিষয়টি স্পষ্ট করতে সহায়তা করবে। কোনো নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেই তা প্রমাণিত হয় না; অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন।
ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর তোলা অভিযোগ দেশটির নির্বাচনি প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সরকার গঠনের সমীকরণকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও নির্বাচনের ফলাফলে সেগুলোর সম্ভাব্য প্রভাব এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়।
তদন্তের ফলাফল, সংশ্লিষ্ট দলগুলোর বক্তব্য এবং নির্বাচনি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশিত হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত তাৎপর্য আরও স্পষ্ট হবে।
সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন টাইমস এবং নেতানিয়াহুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের বরাতে সরবরাহ করা তথ্য।









