সুদানে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের মধ্যে চলমান গৃহযুদ্ধে ভয়াবহ ড্রোন হামলা - নারী, শিশুসহ নিহত অন্তত ১৬০ জন
খার্তুম, সুদান | ২০ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
সুদানে সরকারি সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে চলমান গৃহযুদ্ধে ড্রোন হামলা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিক হামলায় ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশুসহ বিপুলসংখ্যক বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। চিকিৎসক, মানবিক সহায়তা সংস্থা ও মানবাধিকারকর্মীদের বরাতে সোমবার (১৯ অক্টোবর) এ তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
পশ্চিম কর্ডোফানে পরিবহনকেন্দ্রে হামলা, নিহত প্রায় ১১০
সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনাটি ঘটে রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পশ্চিম কর্ডোফান রাজ্যের আল-দিবাব শহরে। স্থানীয় বাজারসংলগ্ন একটি পরিবহনকেন্দ্রে ড্রোন আঘাত হানলে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।
সাপ্তাহিক হাট শেষে বাড়ি ফেরার জন্য যানবাহনের অপেক্ষায় ছিলেন গ্রামবাসীরা। এ সময় ড্রোনটি পরিবহনকেন্দ্রে আঘাত হানে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলেই অন্তত ৮০ জন নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও প্রায় ৩০ জনের মৃত্যু হয়। ফলে ওই হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১১০ জনে।
মানবাধিকার সংস্থা ‘ইমার্জেন্সি লয়ার্স’ এবং স্থানীয় সূত্রগুলো এ হামলার জন্য সুদানের সরকারি বিমান বাহিনীকে দায়ী করেছে। তবে হামলার দায় ও ঘটনার পূর্ণ বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

ব্লু নাইলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সমাবেশেও হামলা
সুদানের রাজধানী খার্তুম, দক্ষিণ দারফুর এবং ইথিওপিয়া সীমান্তবর্তী ব্লু নাইল রাজ্যেও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, ব্লু নাইল অঞ্চলে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি সমাবেশে হামলায় ৪১ জন নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া পূর্ব সুদানের আতবারা এলাকা ও সেতিত বাঁধকে লক্ষ্য করেও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসব হামলা বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
গৃহযুদ্ধে ড্রোনের ব্যবহার বাড়ায় ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ
২০২৩ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া সুদানের গৃহযুদ্ধে সরকারি সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ক্রমেই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষের ড্রোন ব্যবহারের ব্যাপকতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রাণহানির ঝুঁকিও বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, সংঘাতের পক্ষগুলোকে বেসামরিক নাগরিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখতে হবে। বেসামরিক মানুষের ওপর নির্বিচার হামলা নিষিদ্ধ। তাই সাম্প্রতিক হামলাগুলোর প্রকৃতি, লক্ষ্যবস্তু এবং দায় নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গুতেরেসের নিন্দা, গভীরতর হচ্ছে মানবিক সংকট
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ধারাবাহিক ড্রোন হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে সুদান বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুতর মানবিক সংকটের মুখোমুখি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি শিশু তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সংঘাতের পাশাপাশি খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সহায়তার ঘাটতি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে মানবিক যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া এবং সুদানজুড়ে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছে।
সুদানে অব্যাহত ড্রোন হামলা বন্ধ, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। কার্যকর যুদ্ধবিরতি ও রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ জোরদার না হলে দেশটির মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা | ২০ অক্টোবর ২০২৬









