Breaking
চরম সংকটে সহযোগিতা অব্যাহত রাখায় প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা নেপালের, ভারতের সহায়তার প্রশংসা অর্থমন্ত্রী ওয়াগলের

চরম সংকটে সহযোগিতা অব্যাহত রাখায় প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা নেপালের, ভারতের সহায়তার প্রশংসা অর্থমন্ত্রী ওয়াগলের

Share:

Written By

News Desk

চরম সংকটে সহযোগিতা অব্যাহত রাখায় প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা নেপালের, ভারতের সহায়তার প্রশংসা অর্থমন্ত্রী ওয়াগলের

কাঠমান্ডু | ৩০ আগস্ট ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে সৃষ্ট মানবিক সংকট মোকাবিলায় ভারতের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন নেপাল সরকারের কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে নেপালের পুনর্গঠন ও ত্রাণ কার্যক্রমে ভারতের সহায়তাকে “অসাধারণ উদার” হিসেবে বর্ণনা করেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে

পিটিআই ভিডিওস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়াগলে জানান, নয়াদিল্লি নেপালের জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার পাশাপাশি ভবিষ্যতে পুনর্গঠনেও উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

নেপাল–তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধস ও বরফ-পাথরের বিশাল ধসের পর প্রবল পানির স্রোত, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ মধ্য নেপালের বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘরবাড়ি, যানবাহন, সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে।

৫৭.৬ টন ত্রাণ পাঠিয়েছে ভারত

নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলায় বুধবার থেকে ভারত ৫৭.৬ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। কাঠমান্ডুর অনুরোধের পর চিকিৎসাকর্মী ও টানেল উদ্ধার বিশেষজ্ঞসহ ১১ সদস্যের একটি ভারতীয় দলও নেপালে পৌঁছেছে।

নেপালি অর্থমন্ত্রী জানান, ভারতীয় সহায়তা বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় উদ্ধার ও জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

উদ্ধারই এখন প্রথম অগ্রাধিকার

স্বর্ণিম ওয়াগলে বলেন, নেপাল সংকট মোকাবিলাকে কয়েকটি ধাপে এগিয়ে নিচ্ছে। প্রথম ধাপে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আটকে পড়া ও বিপদে থাকা মানুষদের উদ্ধার, বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে আটকে থাকা কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে আনা।

তিনি জানান, নেপাল সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে ১ হাজার ৯৩০ জনকে আকাশপথে সরিয়ে নিয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ধুনচে, রাসুওয়া ও স্যাফ্রু বেসি এলাকায় হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

পরবর্তী ধাপে পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন

ওয়াগলের মতে, জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমের পর নেপাল প্রাথমিক পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসনের দিকে যাবে। এর মধ্যে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য নগদ অর্থের বিনিময়ে কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এরপর শুরু হবে দুর্যোগে ধ্বংস হওয়া সড়ক, সেতু, ঘরবাড়ি ও অন্যান্য অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন—যাকে তিনি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।

১১ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী উদ্ধার অভিযানে

নেপালজুড়ে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে ১১ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৫ হাজারের বেশি নেপাল সেনাবাহিনীর সদস্য রয়েছেন।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থা এবং নতুন করে বন্যা বা ভূমিধসের ঝুঁকি উদ্ধার অভিযানকে আরও জটিল করে তুলছে।

‘ভারত সরকার ও প্রধানমন্ত্রী মোদি অসাধারণভাবে উদার’

ভারতের সহযোগিতার প্রশংসা করে নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে বলেন, “ভারত সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী মোদি অসাধারণভাবে উদার।” তিনি স্মরণ করেন, ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের সময়ও ভারত সরকারের সহায়তা নেপালের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক বন্যার পর নয়াদিল্লি থেকে বিশেষ ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে এবং নেপালের পুনর্গঠনে ‘অত্যন্ত উদার সহায়তা’ দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে ভারত।

ওয়াগলে বলেন, নেপালের অন্যান্য প্রতিবেশী দেশ থেকেও সহযোগিতা আসছে। তবে বর্তমান সংকটে দ্রুত উদ্ধার, জরুরি ত্রাণ এবং পরবর্তী পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নেপালের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নেপালে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধান, দুর্গত এলাকায় খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধার এখন দেশটির প্রধান অগ্রাধিকার।

সূত্র: PTI ও নেপাল সরকারের সংশ্লিষ্ট বক্তব্য।