দীর্ঘদিনের ভারত–চীন সীমান্ত বিরোধ সমাধানে ২৫তম দফার আলোচনায় শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের বৈঠক
নয়াদিল্লি | ২৩ আগস্ট ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
ভারত–চীন সীমান্ত বিরোধ নিয়ে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনার ২৫তম দফায় বৈঠকে বসতে যাচ্ছে দুই দেশ। আলোচনায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই নিজ নিজ দেশের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেবেন।
দোভাল সোমবার বেইজিং সফরে যাবেন এবং মঙ্গলবার ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের এই আলোচনা ব্যবস্থার লক্ষ্য প্রায় ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত–চীন সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের একটি গ্রহণযোগ্য ও সার্বিক সমাধান খুঁজে বের করা।
সীমান্তে স্থিতিশীলতাই আলোচনার প্রধান লক্ষ্য
বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ে একাধিক দফা আলোচনা হলেও এখনো সীমান্ত বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। তবে সংবেদনশীল সীমান্ত ইস্যুতে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখা এবং সামরিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে এই আলোচনা দুই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক চ্যানেল হিসেবে কাজ করছে।
২০২০ সালে সীমান্তে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার পর ভারত–চীন সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে চাপে ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশ সীমান্তে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় জোরদারের চেষ্টা করছে।

ব্রিকস সম্মেলনের আগে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
দোভালের বেইজিং সফর এমন সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্মেলনে অংশ নেবেন কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। তবে শি ভারতে এলে সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
মোদি ও শি সর্বশেষ ২০২৫ সালের আগস্টে তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠক করেছিলেন।
সীমান্তে শান্তির ওপর জোর জয়শঙ্করের
দোভালের সফরের আগে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ভারত–চীন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
শনিবার নয়াদিল্লিতে Economic Times World Leaders Forum-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় জয়শঙ্কর বলেন, ২০২০ সালের গ্রীষ্ম থেকে ২০২৪ সালের শরৎ পর্যন্ত ভারত–চীন সম্পর্ক একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছে এবং এর প্রধান কারণ ছিল সীমান্ত পরিস্থিতি।
এদিকে অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি এলাকায় চীনের সামরিক তৎপরতা নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের মধ্যেই জয়শঙ্করের এই মন্তব্য এসেছে।
২০২০-এর উত্তেজনার পর সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা
দোভাল–ওয়াং বৈঠক এমন এক সময় হচ্ছে, যখন লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (LAC) বরাবর উত্তেজনা কমিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান এখনো অধরা থাকলেও, দুই দেশ নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
ফলে আসন্ন ২৫তম দফার বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা শুধু সীমান্ত বিরোধ নিয়ে আলোচনার আরেকটি ধাপ নয়; বরং ২০২০ সালের পর ভারত–চীন সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল করার বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।





