আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্বনেতাদের প্রশংসায় ভাসছে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর শাক্তি,সামর্থ্য এবং আত্মমর্যাদার অবস্থান —ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান
তেহরান, ইরান | ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি, সাহসিকতা, সক্ষমতা ও মর্যাদার প্রশংসা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং সাম্প্রতিক সংঘাতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরোধ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অবস্থানকে আরও দৃশ্যমান করেছে।
১৮ অক্টোবর ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে প্রকাশিত মেহর নিউজ এজেন্সির (এমএনএ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর যোগ্যতা পর্যালোচনাসংক্রান্ত একটি অধিবেশনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য দিতে গিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও নেতাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকগুলোতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি, সাহসিকতা ও মর্যাদার বিষয়টি উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রশংসা
বক্তব্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখে দেশের প্রতিরক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাহিনীর আত্মত্যাগ, সাহসিকতা ও প্রতিরোধের সক্ষমতা বিশ্বকে বিস্মিত করেছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেভাবে দেশের প্রতিরক্ষায় ভূমিকা রেখেছে, তা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের ওপরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। তাঁর মতে, এই প্রতিরোধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে ইরানের জন্য গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিদেশ সফর এবং বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে আলোচনার সময় ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও সশস্ত্র বাহিনীর অবস্থান নিয়ে প্রশংসাসূচক মন্তব্য শুনেছেন।

শহীদদের স্মরণ ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা
বক্তব্যে পেজেশকিয়ান ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি, ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সালের ইরান–ইরাক যুদ্ধের শহীদ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক ৪০ দিনের যুদ্ধের সময় নিহত ব্যক্তিবর্গ, শহীদ স্কুলশিক্ষার্থী এবং ইরানের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেজর জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
তিনি দেশের প্রতিরক্ষায় আত্মত্যাগকারী ব্যক্তিদের অবদান স্মরণ করে সশস্ত্র বাহিনীর বীরত্ব, দৃঢ়তা ও দেশপ্রেমের প্রশংসা করেন।
প্রতিরক্ষা শিল্পে বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের অবদান
ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রতিরক্ষা শিল্পের বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রতিরক্ষা শিল্প খাতে উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে।
পেজেশকিয়ানের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তার প্রচেষ্টার পাশাপাশি শহীদ বিজ্ঞানী মহসেন ফখরিজাদেহ ও তেহরানি মোগাদ্দামের মতো ব্যক্তিদের অবদান ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে।
তিনি দাবি করেন, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, উন্নত সামরিক সরঞ্জাম ও ব্যাপক সামরিক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বিদেশি শক্তিগুলোর জন্য দেশটিতে সহজে সামরিক আগ্রাসন চালানো সম্ভব নয়।
আঞ্চলিক নিরাপত্তায় ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা
পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে সামরিক আত্মনির্ভরতা, প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন এবং বহিরাগত হুমকি মোকাবিলার প্রস্তুতি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর মতে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরোধ শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রেই নয়, বরং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলেছে।
তবে বিভিন্ন দেশের নেতারা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করেছেন—এ বিষয়ে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কোনো বিদেশি নেতার নাম বা তাঁদের পৃথক বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি। তাই বিষয়টি ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও মূল্যায়ন হিসেবে বিবেচনা করা সমীচীন।
দ্য গ্লোবাল জার্নাল









