সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেয়ীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন রেখে দেশেকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনরব্যাক্ত করলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান
তেহরান | ২৯ আগস্ট ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনেয়ীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করে দেশকে আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ পথে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের মন্ত্রিসভা।
শনিবার ইরানের মন্ত্রিসভা এক বিবৃতিতে জাতীয় ঐক্য রক্ষা, অর্থনীতি ও জনগণের জীবনযাত্রার মানকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং কূটনীতি ও প্রতিরক্ষাকে “দুটি পরিপূরক ডানা” হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি জানায়।
সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের প্রধান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সিদ্ধান্তে “জাতীয় সংহতি সংযোজনী” যুক্ত করা হবে। সামাজিক বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে—এমন যেকোনো পদক্ষেপ এড়ানো এবং জাতীয় ঐক্যকে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই হবে এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

জাতীয় সংহতিকে রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রে আনার ঘোষণা
ইসলামি বিপ্লবের নেতা মোজতবা খামেনেয়ীর সাম্প্রতিক সামাজিক বিভাজন নিয়ে সতর্কবার্তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মন্ত্রিসভা বলেছে, বড় ধরনের সব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশের জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের প্রভাব বিবেচনা করা হবে।
এছাড়া “মিথ্যা দ্বৈততা” ও “হতাশাবাদী বক্তব্য” পরিহার করাকে সরকারের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারের মতে, অভ্যন্তরীণ বিভাজন কমিয়ে জনগণের মধ্যে আস্থা ও ঐক্য জোরদার করা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে জোর
বিবৃতিতে ইরানের দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেশ কয়েকটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বাজার ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় উৎপাদনে পুঁজি প্রবাহ বাড়ানো।
সরকার একই সঙ্গে ধীরে ধীরে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের কথা জানিয়েছে।
এ লক্ষ্যে “প্রতিরোধমূলক অর্থনীতি” নীতি বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বহিরাগত অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও জাতীয় অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল ও স্বনির্ভর করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

প্রযুক্তি, শিক্ষা ও উৎপাদন খাতে গতি বাড়ানোর পরিকল্পনা
মন্ত্রিসভা জানিয়েছে, প্রযুক্তি, শিক্ষা, কৃষি, শিল্প, যোগাযোগ ও সংস্কৃতি খাতে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা হবে।
এর অন্যতম লক্ষ্য হবে দেশের “বৈজ্ঞানিক কর্তৃত্ব” আরও শক্তিশালী করা এবং ইসলামি বিপ্লবের দ্বিতীয় ধাপের ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নে অগ্রগতি বাড়ানো।
সরকারের মতে, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য জ্ঞান, প্রযুক্তি, উৎপাদন সক্ষমতা এবং মানবসম্পদের ওপর বিনিয়োগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।
কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা—‘দুটি পরিপূরক ডানা’
পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির ক্ষেত্রেও মন্ত্রিসভা তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের কূটনীতি “মর্যাদা, প্রজ্ঞা ও সুবিধাবাদ” নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে ইরানের প্রচলিত রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রেখে নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য চাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে।
মন্ত্রিসভা বলেছে, জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা ও দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা পরস্পর পরিপূরক, সমন্বিত ও অবিচ্ছেদ্য দুটি ডানা। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শহীদ নেতাদের স্মরণ ও সরকারের অঙ্গীকার পুনর্নিশ্চিত
বিবৃতিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ আলি রাজায়ি ও ইব্রাহিম রাইসি, প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ বাহোনার এবং অন্যান্য নিহত সরকারি কর্মকর্তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
একই সঙ্গে বর্তমান ও সাবেক নেতৃত্বের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারও পুনর্নিশ্চিত করা হয়েছে।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, জনগণের সেবা এবং একটি “আরও শক্তিশালী ইরান” গড়ে তুলতে মন্ত্রিসভা তাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে কাজ করবে।
ইরান সরকারের এই ঘোষণায় অভ্যন্তরীণ ঐক্য, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন, কূটনীতি এবং প্রতিরক্ষাকে একই কৌশলগত কাঠামোর মধ্যে এগিয়ে নেওয়ার একটি সমন্বিত নীতির ইঙ্গিত মিলেছে।
সূত্র: Mehr News Agency





