Breaking
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপের পাল্টা জবাব দিতে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত - ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপের পাল্টা জবাব দিতে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত - ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান

Share:

Written By

News Desk

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপের পাল্টা জবাব দিতে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত - ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান

তেহরান | ২৫ আগস্ট ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল 

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন করে বিস্তৃত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর পাল্টা জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে তেহরান। ইরানের অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহ বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় তাঁর দেশ পুরোপুরি প্রস্তুত। একই সঙ্গে ইরান দাবি করেছে, তাদের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদাররা ওয়াশিংটনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন। ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপ ইরানের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলোকে চাপে ফেলবে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে ডলারভিত্তিক বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এ দফায় প্রায় ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহায়তাকারী নেটওয়ার্ক, জ্বালানি ও শিপিং খাত এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে লক্ষ্য করা হয়েছে।

‘নিষেধাজ্ঞার জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত’

ইরানের অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, তেহরান নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে আসছে এবং তেহরান সেই পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা শুধু আত্মরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

মাদানিজাদেহ আরও দাবি করেন, চীন ও রাশিয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নীতিকে সমর্থন করছে না এবং অন্য দেশগুলোর কাছ থেকেও একই ধরনের অবস্থান প্রত্যাশা করছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে চীনের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে তাদের বৈধ বাণিজ্যিক সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে।

ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক চাপ আরও বিস্তৃত

মার্কিন প্রশাসনের নতুন নিষেধাজ্ঞা শুধু সরাসরি ইরানি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা তৃতীয় দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও ভবিষ্যতে secondary sanctions বা গৌণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঝুঁকি তৈরি করা হয়েছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল, শিপিং এবং ইরানি তেল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করছে। তবে সব সম্ভাব্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনের জন্য সময় দেওয়া হচ্ছে।

সামরিক পাল্টা জবাবের হুমকিও অব্যাহত

নতুন নিষেধাজ্ঞার আগে ইরান সতর্ক করেছিল, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক চাপ বাড়ালে তেহরান সামরিক প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করতে পারে এবং উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি আরও সীমিত করার সক্ষমতাও রয়েছে।

ইরানের সামরিক কর্মকর্তারাও এর আগে সতর্ক করেছেন, ইরানের অবকাঠামো বা নিরাপত্তা স্বার্থ সরাসরি হুমকির মুখে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ ও আঞ্চলিক জ্বালানি পরিবহনপথ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।

রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের প্রায় ছয় মাস পরও অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের মধ্যে রয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন উদ্বেগ

বর্তমান সংকটে হরমুজ প্রণালী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রশ্নগুলোর একটি। এই জলপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হতো। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার কারণে ওই রুটে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও এখনো স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার পথও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি।

যুদ্ধের পাশাপাশি কূটনীতির পথও খোলা রাখছে দুই পক্ষ

নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা থাকলেও, রয়টার্সের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত রয়েছে যে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ করেনি

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। তেহরানও বলেছে, সম্মান ও ন্যায়ের ভিত্তিতে আলোচনা হলে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকতে পারে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাবের আশঙ্কা

ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে দেশটির তেল, শিপিং ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আরও চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ইরান পাল্টা পদক্ষেপ নিলে হরমুজ প্রণালী ও উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর বাজারের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে যায়, যদিও হরমুজকে ঘিরে ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য ইরানি প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ এখনো বহাল রয়েছে।

মার্কিন অর্থনৈতিক চাপ ও ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার এই চক্র এখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ—তিন ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স ও সংশ্লিষ্ট সরকারি বিবৃতি।