ইরানের তৈরি মিসাইল পাল্লার উপর আর কোন নিষেধাজ্ঞা নেই।এখন থেকে পূর্বের তুলনায় যে কোন হামলার শতগুণ শক্তিশালী জবাব দিতে পারবেন তেহরান -আইআরজিসি মুখপাত্র
তেহরান, ইরান | ৭ নভেম্বর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
ইরানের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার ওপর আর কোনো দূরত্বসীমা কার্যকর নেই বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মহেব্বি। একই সঙ্গে ইরানের ওপর যেকোনো ধরনের সামরিক হামলার জবাব অতীতের তুলনায় বহুগুণ বেশি শক্তিতে দেওয়া হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) তেহরানের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ‘আইআরজিসি মহাকাশ সপ্তাহ’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। মহেব্বির দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার ওপর আগে যে দূরত্বগত সীমাবদ্ধতা ছিল, তা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে কোনো সামরিক সংঘাত সৃষ্টি হলে নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী যেকোনো দূরত্বে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার প্রস্তুতি রয়েছে তেহরানের।
মাটির নিচে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি
সংবাদ সম্মেলনে আইআরজিসির মুখপাত্র জানান, নিজস্ব প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ইরানের বিস্তৃত ভৌগোলিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে দেশজুড়ে অসংখ্য ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল সিটি’ বা গোপন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি নির্মাণ করা হয়েছে। শত্রুপক্ষের ধারাবাহিক বিমান হামলার মধ্যেও ইরানের সামরিক উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত কার্যক্রম অব্যাহত ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
মহেব্বির ভাষ্য অনুযায়ী, সামরিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্ত্র উৎপাদনের বিভিন্ন কারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় স্থানান্তর করা হয়েছে। ফলে ওপর থেকে বোমাবর্ষণ করেও ইরানের সামরিক উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া গত দুই সপ্তাহে শত্রুপক্ষের সাতটি এমকিউএম-১৭০ নজরদারি ড্রোন অক্ষত অবস্থায় নামিয়ে আনার দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, এই সক্ষমতা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ও সামরিক প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রতিফলন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ভুল সামরিক হিসাব কিংবা আগ্রাসনের চেষ্টা করা হলে তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। এমন জবাব দেওয়া হবে, যার প্রভাব প্রতিপক্ষকে বহু বছর ধরে বহন করতে হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হলে দেশটির এমন কিছু সামরিক সক্ষমতা ও প্রযুক্তি সামনে আসবে, যা প্রতিপক্ষকে বিস্মিত করবে।
সামরিক প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরশীলতার দাবি তেহরানের
নিজের বক্তব্যে আইআরজিসি মহাকাশ বাহিনীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের কথা তুলে ধরেন মহেব্বি।
প্রথমত, বিদেশি অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিকাশে সফল হয়েছে ইরান। তাঁর দাবি, একসময় অস্ত্র আমদানিনির্ভর দেশ থাকলেও বর্তমানে ইরান নিজস্বভাবে অস্ত্র উৎপাদন ও রপ্তানি করছে।
দ্বিতীয়ত, নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘আরমান’ ক্ষেপণাস্ত্র, ‘৩৫৮’ ড্রোন এবং ‘খোরদাদ-৩’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করেছে দেশটি। এসব প্রযুক্তি বিদেশেও সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তৃতীয়ত, সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে ইরান এখন অনেকাংশে স্বনির্ভর বলে দাবি করেন আইআরজিসির এই মুখপাত্র। তাঁর ভাষ্য, সামরিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের জন্যও এখন অন্য দেশের ওপর নির্ভর করতে হয় না তেহরানকে।
এদিকে, ‘আইআরজিসি মহাকাশ সপ্তাহ’ উপলক্ষে দেশটির সামরিক প্রযুক্তি ও নতুন উদ্ভাবনগুলো সাধারণ মানুষের সামনে প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মহেব্বি।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার এই ঘোষণা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা সংক্রান্ত ঘোষণার বাস্তবায়ন, নতুন সামরিক সক্ষমতা এবং ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
সূত্র: মেহের নিউজ (Mehr News)









