মার্কিন-ইসরায়েলি শত্রুপক্ষের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সব সম্পদ ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর নাগালের মধ্যে -মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি
তেহরান, ইরান | ৩ নভেম্বর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দৃশ্যমান এবং অদৃশ্য সব ধরনের সম্পদ এখন ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর নাগালের মধ্যে রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ ও খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি। ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের হুমকি বা আগ্রাসন চালানো হলে তার তাৎক্ষণিক, শক্তিশালী ও কার্যকর জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ইরানের ‘বিশ্ব আধিপত্যবাদবিরোধী জাতীয় দিবস’ বা ১৩ আবান উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় এসব কথা বলেন জেনারেল আবদোল্লাহি। দেশটির বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি (MNA) এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
বার্তায় তিনি দাবি করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথভাবে চাপিয়ে দেওয়া ৪০ দিনের যুদ্ধের পর ইরান বিশ্বের উদীয়মান চতুর্থ শক্তিকেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাঁর মতে, এই সংঘাত শুধু সামরিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটায়নি, বরং বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রচলিত কাঠামোকেও নতুনভাবে প্রভাবিত করছে।
ইরানের ইতিহাসে ১৩ আবানের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, দিনটি দেশটির জনগণের কাছে বিশ্ব আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও সংগ্রামের প্রতীক। ১৯৬৪ সালে ইমাম খোমেনির নির্বাসন, ১৯৭৯ সালে বিপ্লবী শিক্ষার্থীদের হত্যাকাণ্ড এবং একই বছরের ৪ নভেম্বর তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখলের ঘটনা এই দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। এ ছাড়া ১৯৫৩ সালের ২৮ মর্দাদে সংঘটিত অভ্যুত্থান ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর ‘অপারেশন অ্যাজাক্স’-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি ইরানের জনগণের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায়ের কথা তুলে ধরেন।

জেনারেল আবদোল্লাহি আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ দেশটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক শক্তিকেন্দ্রে পরিণত করেছে। তাঁর ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে আঞ্চলিক দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয়ের ওপর নির্ভরশীল না হয়েও নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম। এর ফলে এককেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার প্রচলিত ধারণা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
ইরান যুদ্ধ বা সংঘাত চায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সময়ের বাস্তবতা ও কৌশলগত প্রয়োজনের ভিত্তিতে দেশটির সামরিক নীতিতে পরিবর্তন এসেছে। এখন ইরানের সামরিক অবস্থান শুধু প্রতিরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা ‘আক্রমণাত্মক উদ্যোগ’ গ্রহণ এবং সংকট ব্যবস্থাপনার পরিবর্তে নতুন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার জবাব কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেও শত্রুপক্ষকে সতর্ক করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনার কথা উল্লেখ করেন জেনারেল আবদোল্লাহি।
আঞ্চলিক স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তিনি বলেন, লেবানন ও গাজাসহ সব সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যুদ্ধের অবসান ঘটানো জরুরি। একই সঙ্গে ইরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান নিরাপত্তা কাঠামোর পরিবর্তে একটি নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন তিনি। যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর নিশ্চয়তা এবং বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও যুদ্ধ অবসানের জন্য উত্থাপিত সাত দফা প্রস্তাবের অন্তর্ভুক্ত বলে জানান।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে দেশের প্রতিরক্ষা ও জাতীয় প্রতিরোধ সক্ষমতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে জেনারেল আবদোল্লাহি বলেন, জনগণের সমর্থন নিয়ে দেশটির সামরিক বাহিনী অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি প্রতিপক্ষের মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। সর্বোচ্চ প্রতিরোধ সক্ষমতা বজায় রাখতে সামরিক প্রস্তুতি, গোয়েন্দা তথ্য এবং কৌশলগত সক্ষমতা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মার্কিন-ইসরায়েলি প্রতিপক্ষের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সম্পদকে লক্ষ্যবস্তুর আওতায় রেখে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের লক্ষ্যবস্তুর তথ্যভান্ডার ক্রমাগত হালনাগাদ করছে। যেকোনো মাত্রা ও ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই তাৎক্ষণিক ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া জানাতে ইরানের সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।
সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি (MNA), ইরান।









