ইরান–যুক্তরাষ্ট্র চলমান সংঘাতের উত্তেজনা প্রশমনে তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, স্বাগত জানালেন ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনি
তেহরান | ২৪ আগস্ট ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র চলমান সংঘাতের উত্তেজনা কমিয়ে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি।
তেহরানে পৌঁছানোর পর দুই পাকিস্তানি কর্মকর্তাকে স্বাগত জানান ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনি। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সফরটি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ইসলামাবাদের চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ।
আলোচনার কেন্দ্রে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুনিরের তেহরান সফরের অন্যতম লক্ষ্য হলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনার পথ এগিয়ে নেওয়া। পাকিস্তান চলতি বছর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও মধ্যস্থতায় ভূমিকা পালন করে আসছে।
পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের মতে, আলোচনায় ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সমঝোতা, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (MoU), নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকি এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি উঠে আসতে পারে।
এছাড়া পাকিস্তান–তুরস্ক–সৌদি আরবের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য নিরাপত্তা ইস্যুও আলোচনায় স্থান পেতে পারে।
তেহরান সফরের আগে ট্রাম্পের সঙ্গে মুনিরের ফোনালাপ
মুনিরের তেহরান সফরের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছে বলেও রয়টার্স জানিয়েছে।
পাকিস্তানি সূত্রগুলোর দাবি, ওই কথোপকথনে ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রভাব কাজে লাগিয়ে ইরানকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
মুনিরের তেহরান সফরের সঙ্গে এই ফোনালাপের সময়গত সম্পর্ককে ঘিরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতামূলক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা ও হরমুজ নিয়ে চাপ
মুনিরের সফর এমন সময়ে হচ্ছে, যখন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে ওয়াশিংটনের চাপ বাড়ছে।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালী বর্তমান সংকটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে এই জলপথের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা কমানোও বৃহত্তর ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
আঞ্চলিক শান্তিতে পাকিস্তানের ভূমিকা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান এর আগেও মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সংঘাত ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে সেই প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হয়।
এবার ইসলামাবাদ নতুন করে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ও আস্থার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। মুনিরের মতো শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার সফর এ প্রচেষ্টাকে আরও রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত গুরুত্ব দিয়েছে।
ফলে আসিম মুনিরের তেহরান সফরকে শুধু পাকিস্তান–ইরান দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ হিসেবে নয়, বরং ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত প্রশমন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য নতুন শান্তি আলোচনার পথ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
তবে তেহরানে মুনিরের বৈঠকের ফলাফল এবং কোনো নির্দিষ্ট সমঝোতার বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।





