যুদ্ধ এবং শান্তির মধ্যবর্তী অচলাবস্থা কাটাতে আমাদের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নির্দেশ বাস্তবায়নে আমরা অঙ্গিকারবদ্ধ -ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান
তেহরান, ইরান | ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
ইরানের বর্তমান ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা খামেনির নির্দেশনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে সরকার সর্বোচ্চ সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় পেজেশকিয়ান বলেন, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়িকে দেওয়া সর্বোচ্চ নেতার সাম্প্রতিক নির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে ইরানি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত শর্ত পূরণের প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি এতে গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্দেশনাটি দেশের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছে। লক্ষ্য অর্জনে সরকারের সব বিভাগকে সমন্বিতভাবে এবং পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে কাজ করতে হবে।
পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনিক প্রস্তুতির নির্দেশ
দেশের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পেজেশকিয়ান। তিনি মন্ত্রী, নির্বাহী বিভাগের প্রধান এবং তাঁদের উপপ্রধানদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, সরকারি কার্যক্রমে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম সচল রাখা এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টি উঠে এসেছে।

বহিরাগত চাপ ও হুমকির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান
পেজেশকিয়ান বলেন, হুমকি, নিষেধাজ্ঞা ও বহিরাগত চাপের মুখেও ইরান শক্তি ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চাপ ও হুমকি বাড়িয়ে ইরানি জনগণের মনোবল দুর্বল করা কিংবা দেশকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব হবে—এমন ধারণা প্রতিপক্ষের রাখা উচিত নয়।
ইরানের প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যে জাতীয় সংহতি, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং বহিরাগত চাপ মোকাবিলায় সরকারের দৃঢ় অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব ঘোষণার বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর।
জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব
এর আগে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি কাউন্সিল ও এর সচিবালয়কে দেশের নীতিনির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হিসেবে উল্লেখ করেন।
আলোচনায় জাতীয় ঐক্য জোরদার, জনগণ ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং সংবিধানে থাকা সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে প্রেসিডেন্ট ও নির্বাহী বিভাগকে সমস্যা সমাধানে সহায়তা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়টিও আলোচনায় স্থান পায়।
সর্বোচ্চ নেতা বর্তমান ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে ইরানি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত শর্ত পূরণের প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়ার ওপরও জোর দেন।
অচলাবস্থা কাটাতে কী পদক্ষেপ নেবে তেহরান?
পেজেশকিয়ানের এই অঙ্গীকার এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলার পাশাপাশি সংঘাতের অবসানের জন্য নিজেদের শর্ত পূরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ বাস্তবায়নে সরকার ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সমন্বয়ও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে ইরানের নির্ধারিত শর্তগুলো কী, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা কতটা—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নির্দেশ বাস্তবায়নে পেজেশকিয়ানের অঙ্গীকার ইরানের প্রশাসনিক প্রস্তুতি, জাতীয় ঐক্য এবং বহিরাগত চাপ মোকাবিলার অবস্থানকে সামনে এনেছে। তবে ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ পরিস্থিতির অবসান শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে ইরানের ঘোষিত শর্ত, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত পদক্ষেপের ওপর।
সূত্র: ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি (MNA), ২৮ অক্টোবর ২০২৬।









