Breaking
“এ যেন প্রেসিডেন্ট পুতিনের একক সাম্রাজ্য”—রাশিয়া-আফ্রিকা সম্পর্ক জোরদারে মস্কোতে শীর্ষ সম্মেলন, অংশ নিল ৫৪ দেশের মধ্যে প্রায় ৫০টি দেশ

“এ যেন প্রেসিডেন্ট পুতিনের একক সাম্রাজ্য”—রাশিয়া-আফ্রিকা সম্পর্ক জোরদারে মস্কোতে শীর্ষ সম্মেলন, অংশ নিল ৫৪ দেশের মধ্যে প্রায় ৫০টি দেশ

Share:
News Desk
Written Byadmin

News Desk

No comments yet. Be the first to share your thoughts! Comments.header

সব আর্টিকেল

“এ যেন প্রেসিডেন্ট পুতিনের একক সাম্রাজ্য”—রাশিয়া-আফ্রিকা সম্পর্ক জোরদারে মস্কোতে শীর্ষ সম্মেলন, অংশ নিল ৫৪ দেশের মধ্যে প্রায় ৫০টি দেশ

মস্কো, রাশিয়া | ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল

আফ্রিকা মহাদেশে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যে মস্কোতে অনুষ্ঠিত রাশিয়া-আফ্রিকা শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়েছে মহাদেশটির ৫৪টি দেশের মধ্যে প্রায় ৫০টি। এসব দেশের মধ্যে প্রায় ২০টির রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনের মাধ্যমে আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, খাদ্যনিরাপত্তা, শিক্ষা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে রাশিয়া।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) শেষ হওয়া এই সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আফ্রিকান নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থ এবং একটি বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ক্রেমলিনে আফ্রিকান নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে পুতিন বলেন, “রাশিয়া ও আফ্রিকা প্রকৃত অর্থেই শক্তিশালী বন্ধুত্ব ও ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্বের বন্ধনে আবদ্ধ।”

তিনি আরও বলেন, “একটি বহুমেরুকেন্দ্রিক, প্রকৃত গণতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমরা স্বাভাবিক মিত্র।” তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই বিশ্বব্যবস্থা একতরফা নির্দেশনা ও দ্বৈতনীতি থেকে মুক্ত এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতির প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।

সোভিয়েত আমলে আফ্রিকার দেশগুলোর ঔপনিবেশিক শাসনবিরোধী সংগ্রামে মস্কোর সমর্থনের কথাও স্মরণ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আফ্রিকার দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব রক্ষা, ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাত শক্তিশালী করার প্রচেষ্টায় রাশিয়া অতীতের মতো এখনো সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

আফ্রিকায় প্রভাব বাড়ানোর কৌশল

প্রায় ১৬০ কোটি মানুষের মহাদেশ আফ্রিকা বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। জাতিসংঘে আফ্রিকার ৫৪টি দেশ সম্মিলিতভাবে সবচেয়ে বড় ভোটিং ব্লক গঠন করে। ফলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে এই দেশগুলোর সমর্থন ও অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্রভাব তৈরি করতে পারে।

২০১৯ সালে প্রথমবার এবং ২০২৩ সালে দ্বিতীয়বার রাশিয়া-আফ্রিকা শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল মস্কো। এবারের সম্মেলনেও আফ্রিকার প্রায় ৫০টি দেশের অংশগ্রহণ রাশিয়ার সঙ্গে মহাদেশটির বিস্তৃত কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রতিফলন।

তবে সম্মেলনে অংশগ্রহণকে সব আফ্রিকান দেশের রাশিয়ার নীতির প্রতি পূর্ণ সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না। বরং বিভিন্ন দেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি

পুতিন জানান, গত বছর আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার বাণিজ্যের পরিমাণ ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। ভবিষ্যতে এই বাণিজ্য আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

রুশ প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানি আফ্রিকায় জ্বালানি, খনিজ সম্পদ, শিল্প সহযোগিতা এবং পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থাসহ বিভিন্ন খাতে বড় বিনিয়োগ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে।

পুতিন দাবি করেন, রাশিয়ার ব্যবসায়ীরা আফ্রিকার অংশীদারদের সঙ্গে সততা, সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়ার কোম্পানিগুলো অর্জিত আয় সংশ্লিষ্ট দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুনর্বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও দক্ষতা ভাগাভাগি, স্থানীয় ঠিকাদারদের সম্পৃক্ত করা এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

খাদ্যনিরাপত্তায় রাশিয়ার ভূমিকা

আফ্রিকার বাজারে শস্য ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের বড় সরবরাহকারী হিসেবে রাশিয়ার ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন পুতিন। তাঁর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর আফ্রিকার দেশগুলোতে ১ কোটি ৮০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি শস্য সরবরাহ করেছে রাশিয়া। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে সরবরাহের পরিমাণ ছিল আরও ১ কোটি ৩০ লাখ মেট্রিক টন।

খনিজ সার রপ্তানির ক্ষেত্রেও সরবরাহ বাড়ার কথা জানান তিনি। পুতিনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আফ্রিকায় প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন খনিজ সার রপ্তানি করেছে রাশিয়া। চলতি বছর এ পর্যন্ত সেই পরিমাণ ২২ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়েছে।

আফ্রিকার অনেক দেশের কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহব্যবস্থায় সার ও শস্যের আন্তর্জাতিক বাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণে রাশিয়ার কৃষিপণ্য সরবরাহ মহাদেশটির খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের কথা বলেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করছেন।

নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়েও গুরুত্ব দেন পুতিন। তিনি বলেন, আফ্রিকার দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং তাদের প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে রাশিয়া সহায়তা করছে।

পুতিনের ভাষ্য অনুযায়ী, সামরিক ও সামরিক-প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ে আফ্রিকার ৪৫টি দেশের সঙ্গে রাশিয়ার আন্তসরকারি চুক্তি রয়েছে। এসব চুক্তির আওতায় সহযোগিতার প্রকৃতি ও পরিধি দেশভেদে ভিন্ন হতে পারে।

আফ্রিকায় প্রভাব বিস্তারে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা

আফ্রিকায় প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশ ও চীনের পাশাপাশি রাশিয়াও সক্রিয়। অর্থনীতি, জ্বালানি, খনিজ সম্পদ, নিরাপত্তা ও কূটনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে বৈশ্বিক শক্তিগুলো মহাদেশটির দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

বিশেষ করে কয়েকটি আফ্রিকান দেশে নিরাপত্তা সহযোগিতা ও সামরিক উপস্থিতির মাধ্যমে রাশিয়া নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় নিরাপত্তা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিদেশি সামরিক সম্পৃক্ততার প্রভাব নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

ফলে রাশিয়া-আফ্রিকা শীর্ষ সম্মেলন শুধু বাণিজ্য বা কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয় নয়; এটি আফ্রিকায় বৈশ্বিক শক্তিগুলোর প্রভাব বিস্তারের বৃহত্তর প্রতিযোগিতারও অংশ।

আফ্রিকার সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কোন পথে?

মস্কোর এবারের সম্মেলনে আফ্রিকার প্রায় ৫০টি দেশের অংশগ্রহণ রাশিয়ার জন্য বিস্তৃত কূটনৈতিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করেছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, খাদ্য সরবরাহ, শিক্ষা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে মস্কো আফ্রিকায় দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী।

তবে সম্মেলনে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তব প্রকল্পে রূপ নেয়, বিনিয়োগ কতটা কার্যকর হয় এবং সহযোগিতার সুফল সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জনগণের কাছে কতটা পৌঁছায়—তার ওপরই এই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি); সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বক্তব্য।

সম্পর্কিত সংবাদ

সর্বশেষ আপডেট

View All
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের সফল পরীক্ষা চালাল কিম জং-উনের উত্তর কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের সফল পরীক্ষা চালাল কিম জং-উনের উত্তর কোরিয়া

রাজনীতি11/1/2026
৩রা নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের আশংকায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি, জনসমর্থন নেমে এসেছে ৩৩ শতাংশে

৩রা নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের আশংকায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি, জনসমর্থন নেমে এসেছে ৩৩ শতাংশে

লিড নিউজ11/1/2026
আমাদের সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা ফেলে এবার কোন ভৌগোলিক সীমারেখা মানবে না ইরানের সামরিক বাহিনী—মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহির

আমাদের সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা ফেলে এবার কোন ভৌগোলিক সীমারেখা মানবে না ইরানের সামরিক বাহিনী—মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহির

যুদ্ধ11/1/2026
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কোন প্রয়োজনীয়তা আমরা দেখছি না,বৈঠকের কোন পরিকল্পনাও নেই -ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কোন প্রয়োজনীয়তা আমরা দেখছি না,বৈঠকের কোন পরিকল্পনাও নেই -ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি

মধ্যপ্রাচ্য10/31/2026