রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের ক্ষমতা হারাচ্ছে ইউক্রেন।প্রয়োজনীয় ইন্টারসেপ্টর রয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ -সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে -প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি
কিয়েভ | ১৩ আগস্ট ২০২৬| দ্য গ্লোবাল জার্নাল
রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুরুতর চাপের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর দাবি, রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে ইউক্রেনের কাছে বর্তমানে প্রয়োজনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরের মাত্র ১০ শতাংশ রয়েছে।
বুধবার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের ইন্টারসেপ্টর মজুত গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সময়ে রাশিয়া প্রতি মাসে আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে।
জেলেনস্কির ভাষায়, “এ বছর আমাদের কাছে ২০২৫ সালের তুলনায় আড়াই গুণ কম ইন্টারসেপ্টর রয়েছে। রাশিয়া প্রতি মাসে আগের তুলনায় দ্বিগুণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে।” তিনি জানান, প্রায় প্রতিদিনই ইউক্রেনে হামলা হচ্ছে এবং মাসে চার-পাঁচবার বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে।
ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর পাওয়ার পাশাপাশি নিজ দেশে এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উৎপাদনের অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন জেলেনস্কি।গত ৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অধিকার দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে ৩১ জুলাই তিনি জানান, এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
জেলেনস্কি বলেন, বর্তমানে তাঁর কাছে এমনকি প্রয়োজনীয় ইন্টারসেপ্টরের ৫ শতাংশও নেই এবং প্যাট্রিয়ট উৎপাদনের অনুমোদন পাওয়া তাঁর জন্য যুদ্ধের শুরু থেকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইউক্রেনের প্রয়োজনের মাত্র ৫ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ করে, তাহলেও শীতকাল পার করে বহু মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে। আর ১০ শতাংশ সরবরাহ করা হলে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতিরোধ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি এতটাই তীব্র হয়ে উঠেছে যে সাম্প্রতিক একটি বড় রুশ হামলায় দেশটি কোনো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারেনি বলে দাবি করা হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর জুলাই ছিল ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস। ওই মাসে রুশ হামলায় দেশজুড়ে অন্তত ৪৪০ জন নিহত হয়েছেন।
জেলেনস্কি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে ইন্টারসেপ্টর সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বিশ্বজুড়েই আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরের সরবরাহ সীমিত এবং উৎপাদনও চাহিদার তুলনায় ধীরগতিতে চলছে।
জেলেনস্কি বলেন, “আমি প্রতিদিন ১ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। তিনি আরও জানান,ক্ষেপণাস্তর পাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে
ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি এবং রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের বৃদ্ধি সামনে রেখে আগামী শীত মৌসুমে দেশটির বেসামরিক জনগণ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।





