নেপালে ভুমিধসে শতাব্দীর ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপুল প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন -বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
নয়াদিল্লি | ২৯ আগস্ট ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে নেপালের ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য প্রয়োজন হলে সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে মানবিক সহায়তার লজিস্টিকস হাব হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
এক বিবৃতিতে শেখ হাসিনা নেপালের রাসুওয়া জেলার তিমুরে, স্যাব্রুবেশি ও রাসুওয়াগাধি এলাকায় আকস্মিক বন্যায় সৃষ্ট ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, হঠাৎ নেমে আসা বন্যায় বহু পরিবার ও সম্প্রদায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। এতে প্রাণহানি ঘটেছে, অনেক মানুষ এখনো নিখোঁজ এবং অসংখ্য পরিবার অনিশ্চয়তা ও ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে শেখ হাসিনা ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সুস্থতা এবং নিখোঁজদের নিরাপদে উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা করেন।
বাংলাদেশ–নেপাল বন্ধুত্বের কথা তুলে ধরলেন শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও নেপাল ঘনিষ্ঠ বন্ধুপ্রতিম দেশ। ইতিহাস, ভূগোল, সংস্কৃতি, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং দুই দেশের জনগণের অভিন্ন প্রত্যাশা দুই দেশকে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছে।
২০১৮ সালে কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে তাঁর সফরের স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি। সে সময় নেপালের জনগণের উষ্ণতা, মর্যাদা ও প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতা প্রত্যক্ষ করার কথা উল্লেখ করে তিনি সেই সফরকে গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
দুর্যোগে আঞ্চলিক সংহতির আহ্বান
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, বন্যা, নদীভাঙন, ভূমিকম্প ও জলবায়ুজনিত দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মোকাবিলা করে আসছে। তাই নেপালসহ বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে সহযোগিতার গুরুত্ব বাংলাদেশ ভালোভাবেই উপলব্ধি করে।
শেখ হাসিনার মতে, নেপালের সাম্প্রতিক দুর্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন জলবায়ু ও প্রাকৃতিক ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। জলবায়ু পরিবর্তন, আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস, ঝুঁকিপূর্ণ পার্বত্য পরিবেশ এবং চরম আবহাওয়া—এসব চ্যালেঞ্জ কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত মানে না।
এ কারণে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, দুর্যোগ প্রস্তুতি, জলবায়ু অভিযোজন, নদী ব্যবস্থাপনা, তথ্য বিনিময় এবং মানবিক প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থায় আরও ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।
সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব
নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলায় বাস্তব সহায়তার একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে মানবিক সহায়তার লজিস্টিকস হাব হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন শেখ হাসিনা।
কাঠমান্ডু প্রয়োজন মনে করলে এই বিমানবন্দর ব্যবহার করে ত্রাণসামগ্রী ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা দ্রুত নেপালে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হতে পারে বলে তাঁর প্রস্তাবের তাৎপর্য উঠে আসে।
তবে নেপাল সরকার এ ধরনের সহায়তার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অনুরোধ করেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
উদ্ধারকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা
দুর্যোগের মধ্যে জীবন রক্ষায় নিয়োজিত উদ্ধারকর্মী, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, চিকিৎসা দল, স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবক এবং সাধারণ নাগরিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও যারা মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করছেন, তাঁদের সাহস ও মানবিক ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার।
নেপালে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধান, আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান অগ্রাধিকার।
কলামিস্ট -ফজলে রাব্বী রবনা





