ভারতের ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার দৃশ্য টেলিভিশনের পর্দায় দেখে আমি কেঁদেছি -কংগ্রেসের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী
নয়াদিল্লি, ভারত | ৮ নভেম্বর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে ভারতের ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দৃশ্য টেলিভিশনের পর্দায় দেখে কেঁদে ফেলেছিলেন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী। নিজের আসন্ন আত্মজীবনী উপলক্ষে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জীবনের সেই বেদনাদায়ক স্মৃতির কথা তুলে ধরেন তিনি।
সোনিয়া গান্ধীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা তাঁকে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র রক্ষার লড়াই কতটা দীর্ঘ, কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছিল। তাঁর এই স্মৃতিচারণ ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের অন্যতম সংবেদনশীল অধ্যায়কে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
তিনি আরও স্বীকার করেন, ভারতের রাজনীতিতে বিজেপি এবং তাদের কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির উত্থানের পেছনে কংগ্রেসের নিজস্ব কিছু ব্যর্থতা ও আত্মতুষ্টিও আংশিকভাবে দায়ী ছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কংগ্রেস অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত আত্মতুষ্টিতে ভুগেছে এবং দলের মধ্যে একধরনের উদাসীন মনোভাব কাজ করেছে। তাঁর এই স্বীকারোক্তি ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সোনিয়া গান্ধীর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরপরই কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক বাক্যুদ্ধ শুরু হয়েছে। বিজেপির রাজ্যসভার সংসদ সদস্য ও দলটির নেতা সুধাংশু ত্রিবেদী সোনিয়া গান্ধীর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, কংগ্রেস এখনো মুঘল সম্রাট বাবরের প্রতি সহানুভূতির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। তাঁর দাবি, বাবরি মসজিদ নিয়ে সোনিয়ার আবেগপ্রবণ মন্তব্য কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থানকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
একই সঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর প্রয়াত স্বামী ও ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর অযোধ্যাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক পদক্ষেপের তুলনা করেন সুধাংশু ত্রিবেদী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ঠিক কখন এবং কোন টেলিভিশন চ্যানেলে সোনিয়া গান্ধী বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দৃশ্য দেখেছিলেন, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, ওই দিন ঘটনাস্থলে কারসেবকদের প্রবেশ, মসজিদ ধ্বংস এবং পরবর্তী সময়ে সম্প্রচারিত সংবাদ ও দৃশ্যের সময়ক্রম বিবেচনায় সোনিয়ার বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় রাম জন্মভূমি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কারসেবকদের একটি বিশাল সমাবেশ বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলে। ঘটনাটি পরবর্তী সময়ে ভারতের সাম্প্রদায়িক রাজনীতি, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে এক ঐতিহাসিক মোড় তৈরি করে। দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধের পর ২০১৯ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিতর্কিত জমিতে রামমন্দির নির্মাণের পথ খুলে দেয় এবং মসজিদ নির্মাণের জন্য বিকল্প পাঁচ একর জমি বরাদ্দের নির্দেশ দেয়।
সোনিয়া গান্ধীর আত্মজীবনী Belonging: A Journey of Love আগামী ১০ নভেম্বর প্রকাশিত হওয়ার কথা। বইটি প্রকাশের আগেই তাঁর এই স্মৃতিচারণ এবং কংগ্রেসের রাজনৈতিক ব্যর্থতা নিয়ে দেওয়া স্বীকারোক্তি ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ পরিচয়, হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির উত্থান এবং বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঐতিহাসিক প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: The Guardian | The Times of India









