Breaking
৭ বছর পর  ৪০০ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে ভারতে   ঐতিহাসিক সফরে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং

৭ বছর পর ৪০০ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে ভারতে ঐতিহাসিক সফরে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং

Share:

Written By

News Desk

৭ বছর পর  ৪০০ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে ভারতে   ঐতিহাসিক সফরে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং 

নয়াদিল্লি | ২৫ আগস্ট ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল

চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসতে পারেন। তাঁর সফর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হলেও, একাধিক ভারতীয় সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, চীনা কর্মকর্তারা সম্ভাব্য সফরের জন্য হোটেল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা চূড়ান্ত করার কাজ করছেন।

শি ভারতে এলে ২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো তাঁর ভারত সফর হবে। সূত্রগুলোর দাবি, এবারের সফরে তাঁর সঙ্গে প্রায় ৪০০ সদস্যের প্রতিনিধিদল থাকতে পারে, যা ২০১৯ সালে তাঁর সঙ্গে আসা ২০০ জনেরও কম প্রতিনিধির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

ব্রিকসের পাশাপাশি ভারত–চীন সম্পর্কও আলোচনায়

শি চিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফর শুধু ব্রিকসের বহুপাক্ষিক কর্মসূচির দিক থেকে নয়, ভারত–চীন সম্পর্ক স্থিতিশীল করার সম্ভাবনা হিসেবেও গুরুত্ব পাচ্ছে।

২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ছিল। ওই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় ও চারজন চীনা সেনা নিহত হন। পরবর্তী চার বছরের সামরিক অচলাবস্থার পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে দুই দেশ সেনা প্রত্যাহার ও সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর একটি সমঝোতায় পৌঁছায়।

তবে সীমান্ত বিরোধ পুরোপুরি মিটে যায়নি। আগস্টের শুরুতে সীমান্তবর্তী একটি এলাকায় দুই দেশের টহলদলের মুখোমুখি অবস্থানের খবরের পর ভারত আবারও সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।

দোভাল–ওয়াং বৈঠকের সময়েই শির সফরের সম্ভাবনা

শির সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল বেইজিং সফরে গিয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে ২৫তম দফার বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের সীমান্ত আলোচনা করছেন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, ২৫ আগস্ট বেইজিংয়ে ওয়াং ই ও দোভাল ভারত–চীন সীমান্ত প্রশ্নে ২৫তম দফার বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে সহসভাপতিত্ব করবেন।

এই বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। ফলে শির সম্ভাব্য দিল্লি সফরের আগে দুই দেশের শীর্ষ কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের এই যোগাযোগকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার নতুন চেষ্টা

ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান না হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশ ধীরে ধীরে যোগাযোগ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।

এর মধ্যে সম্ভাব্য শি সফরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। উভয় পক্ষই সীমান্ত বিরোধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয় সামলে বাণিজ্য, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতায় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার পথ খুঁজতে পারে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি

শি চিনপিংয়ের সফরের চূড়ান্ত সময়সূচি এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের এজেন্ডা এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বেইজিং ব্রিকস সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং এবারের সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনে ভারতকে সমর্থন করছে। তবে শির ভারত সফর সম্পর্কে তাদের কাছে বর্তমানে প্রকাশ করার মতো কোনো তথ্য নেই। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

শি ২০২৫ সালের ব্রিকস সম্মেলনে ব্রাজিলে উপস্থিত ছিলেন না। তাই ২০২৬ সালের নয়াদিল্লি সম্মেলনে তাঁর সম্ভাব্য উপস্থিতি ব্রিকসের পাশাপাশি ভারত–চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি ও বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে, ভারত ও চীন উভয়ই ব্রিকসকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখছে। ফলে শির সম্ভাব্য দিল্লি সফর শুধু একটি বহুপাক্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ নয়, বরং দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিবেশীর সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্র।