যেকোনো মুহূর্তে মারা যেতে পারেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি,শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন -দাবি করলেন ইসরায়েলি গণমাধ্যম
তেহরান | ৮ আগস্ট ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, তিনি অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন এবং যেকোনো সময় তাঁর মৃত্যুর খবর আসতে পারে। তবে এসব দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং ইরানের পক্ষ থেকেও সর্বশেষ দাবির বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১৪-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা “অত্যন্ত সংকটাপন্ন” এবং তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রতিবেদনটি ইরানের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়েছে।
প্রতিবেদনে IranWire-এর একটি দাবির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার পর থেকে মোজতবা খামেনি মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি।
একটি সূত্রের দাবি, তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই গুরুতর যে তিনি “যেকোনো মুহূর্তে মারা যেতে পারেন” এবং তাঁর অবস্থার খবর ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বিভিন্ন পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে। পেজেশকিয়ানের প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আরেকটি সূত্রও তাঁর শারীরিক অবস্থা ভালো নয় বলে দাবি করেছে।

ইরানের পক্ষ থেকে আগের দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান
মোজতবা খামেনির স্বাস্থ্য নিয়ে গুরুতর অসুস্থতা বা কর্মক্ষমতা হারানোর বিভিন্ন প্রতিবেদন এর আগেও প্রকাশিত হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির হামলায় মোজতবা খামেনির আঘাত গুরুতর ছিল না এবং তিনি দেশের কার্যক্রম তদারকি করে যাচ্ছেন।
সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্বীকার করেন, সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা বর্তমানে “খুব কঠিন”। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, মোজতবা খামেনির উপস্থিতি ইরান সরকারের জন্য এখনো “একটি বড় শক্তির উৎস”।
পেজেশকিয়ান আরও জানান, তিনি সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন এবং তাঁর যুক্তিকে “খুবই সুসংগত” বলে বর্ণনা করেন।
জনসম্মুখে অনুপস্থিতি ঘিরে জল্পনা
মোজতবা খামেনির দীর্ঘদিনের জনসম্মুখে অনুপস্থিতি তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জল্পনা আরও বাড়িয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সূত্র তাঁর গুরুতর আহত হওয়ার দাবি করলেও ইরানি কর্মকর্তারা বারবার তা নাকচ করেছেন।
পশ্চিমা ও ইরানি বিরোধী সূত্র থেকেও তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন দাবি এসেছে। তবে এসব দাবির অনেকগুলোই স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত কোনো চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে নেই। ফলে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সর্বশেষ দাবিকে আপাতত নিশ্চিত সংবাদ হিসেবে বিবেচনা না করে দাবি ও পাল্টা দাবির অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মোজতবা খামেনির স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন কোনো সরকারি ঘোষণা এলে তা ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং দেশটির ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।





