Breaking
বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির নতুন সমীকরণে চীন, ইরান, ভারত, রাশিয়াসহ ব্রিকসের দেশগুলোর ভারসাম্য ও ভূরাজনৈতিক সক্ষমতা

বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির নতুন সমীকরণে চীন, ইরান, ভারত, রাশিয়াসহ ব্রিকসের দেশগুলোর ভারসাম্য ও ভূরাজনৈতিক সক্ষমতা

Share:

Written By

News Desk

বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির নতুন সমীকরণে চীন, ইরান, ভারত, রাশিয়াসহ ব্রিকসের দেশগুলোর ভারসাম্য ও ভূরাজনৈতিক সক্ষমতা

নয়াদিল্লি, ভারত | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল

বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে দ্রুত পরিবর্তনশীল সমীকরণের মধ্যেই নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে একদিকে যেমন চীন, রাশিয়া, ভারত ও ইরানের মতো গুরুত্বপূর্ণ শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থ ও অবস্থান তুলে ধরছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, ডি-ডলারাইজেশন, বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সংস্কার, জ্বালানি নিরাপত্তা ও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে জোটের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও সামনে আসছে।

২০০৬ সালে ব্রিক হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই জোট দুই দশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসরকারি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার মূল কাঠামোর সঙ্গে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়া যুক্ত হওয়ায় ব্রিকসের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

বর্তমানে জোটটি বিশ্বের বিপুল জনগোষ্ঠী ও বৈশ্বিক অর্থনীতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে ব্রিকস এখন কেবল উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম নয়; বরং বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আলোচনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

তবে এই সম্প্রসারণের সঙ্গে বেড়েছে চ্যালেঞ্জও। কারণ ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক কাঠামো, রাজনৈতিক ব্যবস্থা, নিরাপত্তা অগ্রাধিকার এবং বৈদেশিক নীতিতে রয়েছে বড় ধরনের পার্থক্য।

ব্রিকসের শক্তি কোথায়

ব্রিকসের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর সম্মিলিত অর্থনৈতিক ও জনমিতিক সক্ষমতা। চীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি ও উৎপাদনকেন্দ্র। ভারত দ্রুত সম্প্রসারিত অর্থনীতির পাশাপাশি বৃহৎ ভোক্তা বাজার ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার অধিকারী। রাশিয়া জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অঞ্চল ও পশ্চিম এশিয়ার একটি প্রধান ভূরাজনৈতিক খেলোয়াড়।

অন্যদিকে ব্রাজিল কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন, দক্ষিণ আফ্রিকা আফ্রিকার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রবেশদ্বার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে জোটের সামগ্রিক সক্ষমতায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করছে।

ফলে ব্রিকসের শক্তি কোনো একক দেশের ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং জ্বালানি, খাদ্য, শিল্প উৎপাদন, প্রযুক্তি, অবকাঠামো, বাণিজ্য ও আর্থিক ব্যবস্থার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলোর সক্ষমতার সমন্বয়ই জোটটির অন্যতম বড় সম্পদ।

চীন ও রাশিয়ার প্রভাব

ব্রিকসের ভূরাজনীতিতে চীন ও রাশিয়ার ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

চীন ব্রিকসকে পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থার বাইরে উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠার পক্ষে। বেইজিং বৈশ্বিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও আর্থিক ব্যবস্থায় পশ্চিমা নির্ভরতা কমানোর বিভিন্ন উদ্যোগকে সমর্থন করে।

রাশিয়াও ব্রিকসকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক চাপের বিকল্প সহযোগিতামূলক কাঠামো হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য, বিকল্প অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় ডলারের প্রভাব কমানোর বিষয়গুলো মস্কোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে চীন ও রাশিয়ার এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে ভারতের অবস্থানের কিছু পার্থক্য রয়েছে।

ভারতের ভারসাম্যের কৌশল

নয়াদিল্লি ব্রিকসকে পশ্চিমবিরোধী কোনো জোট হিসেবে দেখতে চায় না। ভারতের অবস্থান হলো—ব্রিকস “non-Western”, “anti-Western” নয়।

ভারতের লক্ষ্য বিদ্যমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ভেঙে নতুন কোনো মেরুকৃত কাঠামো তৈরি করা নয়; বরং জাতিসংঘ, IMF, বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও প্রতিনিধিত্বশীল ও কার্যকর করার জন্য চাপ তৈরি করা।

এখানেই ভারতের কৌশলগত অবস্থানের বিশেষত্ব। ভারত একই সঙ্গে ব্রিকস ও কোয়াডের সদস্য। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কোয়াডে কাজ করার পাশাপাশি নয়াদিল্লি চীন, রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে ব্রিকসের প্ল্যাটফর্মে সহযোগিতা করছে।

এই দ্বৈত কূটনৈতিক অবস্থান ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

চীন-ভারত সমীকরণ

ব্রিকসের ভেতরে ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সমীকরণগুলোর একটি হলো চীন।

সীমান্ত বিরোধ, বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তি এবং দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব দুই দেশের সম্পর্ককে জটিল করে রেখেছে।

তবে একই সঙ্গে দুই দেশই ব্রিকসের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি। ফলে ভারত-চীন সম্পর্কের উত্তেজনা যেমন জোটের রাজনৈতিক ঐকমত্যকে প্রভাবিত করতে পারে, তেমনি দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ব্রিকসের ভবিষ্যৎ সক্ষমতাও বাড়াতে পারে।

নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যোগাযোগ তাই শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য নয়, ব্রিকসের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব

রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিক এবং বহুমাত্রিক। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি, মহাকাশ, পারমাণবিক শক্তি এবং কৌশলগত যোগাযোগ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব রয়েছে।

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ভারত রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও ভারতের নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তবে ওয়াশিংটন ও ইউরোপের সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার কারণে মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনায় নয়াদিল্লিকে সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।

ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো—রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক বজায় রেখেও জোটের আলোচনাকে কোনো একটি ভূরাজনৈতিক সংঘাতের দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকে পড়তে না দেওয়া।

ইরানের নতুন গুরুত্ব

ব্রিকস সম্প্রসারণের ফলে ইরানের অন্তর্ভুক্তি জোটের ভূরাজনৈতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অঞ্চল পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী এবং মধ্য এশিয়ার সঙ্গে সংযোগের ক্ষেত্রে ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান ব্রিকসের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ইরানের জন্য ব্রিকস পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় নতুন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে। স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য, বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থা এবং সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ তেহরানের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে ভারতের জন্য ইরান গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দর ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে সংযোগের কারণে।

ফলে ভারত-ইরান সহযোগিতা শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ব্রিকসের বৃহত্তর বাণিজ্যিক ও পরিবহন কাঠামোর সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে।

ডি-ডলারাইজেশন: ব্রিকসের বড় বিতর্ক

ব্রিকসের অর্থনৈতিক আলোচনায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো ডি-ডলারাইজেশন।

রাশিয়া ও চীনসহ কয়েকটি সদস্য দেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর পক্ষে। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য নিষ্পত্তি, বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং নতুন আর্থিক অবকাঠামো তৈরির আলোচনা চলছে।

তবে ভারত অভিন্ন ব্রিকস মুদ্রা চালুর ধারণার বিষয়ে সতর্ক।

নয়াদিল্লি মনে করে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় একটি অভিন্ন ব্রিকস মুদ্রা চালু করা অত্যন্ত জটিল। এর পরিবর্তে ভারত দ্বিপাক্ষিকভাবে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য নিষ্পত্তি এবং বিভিন্ন দেশের বিদ্যমান ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মধ্যে সংযোগ বাড়ানোর পক্ষে।

এতে ব্রিকসের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়তে পারে, আবার একই সঙ্গে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিও কম থাকবে।

পশ্চিম এশিয়া ও ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ বিভাজন

ব্রিকস সম্প্রসারণের ফলে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন স্বার্থ এখন জোটের আলোচনার অংশ।

ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসরের মতো সদস্যদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এক নয়। ফলে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, লোহিত সাগর, হরমুজ প্রণালী এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো বিষয়ে অভিন্ন অবস্থান তৈরি করা কঠিন।

ভারতের জন্য এই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উপসাগরীয় অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক ভারতীয় নাগরিক বসবাস করেন এবং ভারতের জ্বালানি আমদানির বড় অংশ আসে এই অঞ্চল থেকে।

তাই নয়াদিল্লি এমন একটি কূটনৈতিক ভাষা তৈরি করতে চায়, যেখানে আন্তর্জাতিক আইন, শান্তি, কূটনীতি ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব থাকবে, কিন্তু কোনো পক্ষকে সরাসরি বিচ্ছিন্ন করা হবে না।

অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা

ব্রিকসের ভবিষ্যৎ শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের ওপর নির্ভর করবে না। বাস্তব অর্থনৈতিক সহযোগিতাই জোটের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা নির্ধারণ করবে।

স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য, আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল পেমেন্ট, অবকাঠামো বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তি বিনিময়—এসব ক্ষেত্রে ব্রিকস সদস্যদের মধ্যে বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষ করে ভারতীয় UPI, চীনের ডিজিটাল অর্থনীতি, রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং ইরানের ভৌগোলিক ও জ্বালানি গুরুত্বকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো গেলে ব্রিকসের অর্থনৈতিক পরিসর আরও বিস্তৃত হতে পারে।

গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্বে ভারতের ভূমিকা

ব্রিকসের সভাপতিত্ব ভারতের জন্য শুধু একটি কূটনৈতিক দায়িত্ব নয়; এটি গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্বে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার, IMF-এ উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবকাঠামো বিনিয়োগ—এসব বিষয়ে ভারত দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা DPI-ও ভারতের অন্যতম বড় উদ্যোগ। আধার, UPI এবং ডিজিটাল সরকারি সেবা ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা অন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে ভারত প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের একটি বিকল্প মডেল তুলে ধরতে চাইছে।

ব্রিকস কি বিকল্প বিশ্বব্যবস্থার ভিত্তি হতে পারবে?

ব্রিকসের সম্প্রসারণ নিঃসন্দেহে জোটটির অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক ওজন বাড়িয়েছে। কিন্তু সদস্য সংখ্যা বাড়লেই একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ জোট তৈরি হয় না।

চীন ও রাশিয়া যেখানে পশ্চিমা আধিপত্যের বিকল্প কাঠামোর দিকে দ্রুত এগোতে আগ্রহী, ভারত সেখানে তুলনামূলক বাস্তববাদী ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান ধরে রাখতে চায়। ইরান পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় ব্রিকসের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে, অন্যদিকে উপসাগরীয় সদস্যরা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বাণিজ্যকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

এই ভিন্ন অবস্থানগুলোই ব্রিকসের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।

নতুন বিশ্ব সমীকরণে ব্রিকসের ভবিষ্যৎ

ব্রিকস এখন এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে এর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে রাজনৈতিক স্লোগানের চেয়ে বাস্তব সহযোগিতার মাধ্যমে।

চীন, রাশিয়া, ভারত, ইরানসহ সদস্য দেশগুলো যদি নিজেদের ভিন্ন জাতীয় স্বার্থ বজায় রেখেও বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান সংস্কারের মতো অভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারে, তাহলে ব্রিকস বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হবে।

আর ভারত যদি চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে নিজের কৌশলগত অংশীদারত্বও ধরে রাখতে পারে, তাহলে নয়াদিল্লি বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে আরও দৃঢ় অবস্থান তৈরি করতে পারে।

শেষ পর্যন্ত ব্রিকসের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হবে—এটি কি কেবল পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে পরিচিত হবে, নাকি ভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দেশগুলোকে এক টেবিলে এনে একটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা তৈরির কার্যকর প্ল্যাটফর্মে পরিণত হবে?

নয়াদিল্লির ২০২৬ সালের ব্রিকস সম্মেলন সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

এজেন্সি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের তথ্যের সহায়তায়

সর্বশেষ আপডেট

বিমানবন্দরে গিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং'কে এক অনন্য অসাধারণ অভ্যর্থনায় যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে স্বাগতম জানালেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিমানবন্দরে গিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং'কে এক অনন্য অসাধারণ অভ্যর্থনায় যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে স্বাগতম জানালেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

World9/24/2026
মহান আল্লাহ পাক ইরানকে বিজয় দান করবেন, হাতে লেখা চিঠিতে আইআরজিসি'র উদ্দেশ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বার্তা

মহান আল্লাহ পাক ইরানকে বিজয় দান করবেন, হাতে লেখা চিঠিতে আইআরজিসি'র উদ্দেশ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বার্তা

World9/23/2026
বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি দলের ওয়াকআউট, উত্তপ্ত বক্তব্য থেকে গাজা-ইরান-কিউবা ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নিয়ে—জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের প্রথম দিনে যা ঘটল

বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি দলের ওয়াকআউট, উত্তপ্ত বক্তব্য থেকে গাজা-ইরান-কিউবা ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নিয়ে—জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের প্রথম দিনে যা ঘটল

World9/23/2026
ইউক্রেনের সঙ্গে পূর্ণ মাত্রর যুদ্ধে মধ্যেও রাশিয়ান সংবাদ নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক আসনে বিপুলে ব্যবধানে জয় পেয়েছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল -ইউনাইডেট রাশিয়া

ইউক্রেনের সঙ্গে পূর্ণ মাত্রর যুদ্ধে মধ্যেও রাশিয়ান সংবাদ নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক আসনে বিপুলে ব্যবধানে জয় পেয়েছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল -ইউনাইডেট রাশিয়া

World9/21/2026