SCO সম্মেলনের আগে কিরগিজস্তানে একই গাড়িতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী এবং রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট,ফের বিশ্ব কূটনীতিতে আলোচনায় মোদি-পুতিনের বন্ধুত্ব
— গ্লোবাল জার্নাল | বিশকেক, কিরগিজস্তান | ৩১ আগস্ট ২০২৬
কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে শাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে ফের একই গাড়িতে ভ্রমণ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দুই নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর তারা একই গাড়িতে করে ষষ্ঠ ওয়ার্ল্ড নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যান।
গাড়িতে একসঙ্গে যাওয়ার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এ ঘটনায় দুই নেতার মধ্যে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি আবারও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মোদির বিদেশ সফরে অনানুষ্ঠানিক গাড়ি যাত্রাকে কেন্দ্র করে যে ‘কার ডিপ্লোমেসি’ শব্দটি আলোচনায় এসেছে, বিশকেকের ঘটনাটি তারই নতুন উদাহরণ।
এর আগে ২০২৫ সালে চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত SCO সম্মেলনের সময়ও মোদি ও পুতিনকে একই গাড়িতে ভ্রমণ করতে দেখা গিয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পুতিনের ভারত সফরের সময়ও দুই নেতা একই গাড়িতে যাত্রা করেছিলেন।
মোদি-পুতিন বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও যুদ্ধ প্রসঙ্গ
ওয়ার্ল্ড নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে মোদি ও পুতিন উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে ভারত-রাশিয়ার বিশেষ ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয় এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে মোদি জানান, দুই দেশের সম্পর্কের বিস্তৃত ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি জ্বালানি, উদ্ভাবন, মহাকাশ, সার এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগকে ভারত-রাশিয়া সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেন।
যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রসঙ্গে মোদি সংলাপ ও কূটনীতির ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবতাকে পিছিয়ে দেয়।” সংঘাতের অবসানে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

BRICS সম্মেলনে পুতিনকে মোদির আমন্ত্রণ
আগামী সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় BRICS সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।
মোদি বলেন, ভারত নয়াদিল্লির BRICS সম্মেলনে পুতিনকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় রয়েছে। তার সফর ভারত-রাশিয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জবাবে পুতিন ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের প্রতি মোদির ব্যক্তিগত মনোযোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বৈঠকের সময় দুই নেতাকে করমর্দন ও আলিঙ্গন করতেও দেখা যায়।
উজবেকিস্তানেও ‘কার ডিপ্লোমেসি’
মোদির চলমান মধ্য এশিয়া সফরে উজবেকিস্তানেও একই ধরনের দৃশ্য দেখা যায়। তাশখন্দে পৌঁছানোর পর উজবেক প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভ তাকে স্বাগত জানান। পরে দুই নেতাকে বিমানবন্দর থেকে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ পর্যন্ত একই গাড়িতে ভ্রমণ করতে দেখা যায়।
এই অনানুষ্ঠানিক গাড়ি যাত্রাকে দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে উষ্ণ সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের একটি দৃশ্যমান প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কূটনীতিতে ‘কার ডিপ্লোমেসি’র তাৎপর্য
রাষ্ট্রীয় বৈঠকের বাইরে বিশ্বনেতাদের একই গাড়িতে ভ্রমণের মতো অনানুষ্ঠানিক মুহূর্ত অনেক সময় পারস্পরিক আস্থা ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রতীকী বার্তা বহন করে। মোদি-পুতিনের ক্ষেত্রে তিয়ানজিন, ভারত ও এবার বিশকেকে একই ধরনের গাড়ি যাত্রা দুই দেশের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কের প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ আরও বাড়িয়েছে।
বিশকেকের এই ‘কার ডিপ্লোমেসি’ তাই শুধু একটি অনানুষ্ঠানিক গাড়ি যাত্রা নয়; বরং SCO সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে ভারত-রাশিয়ার সম্পর্ক, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং আসন্ন BRICS সম্মেলনের আগে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগেরও একটি আলোচিত মুহূর্ত।
— গ্লোবাল জার্নাল | বিশকেক, কিরগিজস্তান | ৩১ আগস্ট ২০২৬
সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদন ও প্রধানমন্ত্রীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট





