পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের মধ্যে সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি F-35 যুদ্ধবিমান ৪৯টি প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি ইঞ্জিনসহ ২৪.৩ বিলিয়ন ডলারের সামরিক বিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরবের কাছে লকহিড মার্টিনের F-35 লাইটনিং II যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাব্য ২৪.৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রস্তাবিত চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে সৌদি আরব প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের F-35 যুদ্ধবিমান পেতে পারে।
প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রয় চুক্তির আওতায় রয়েছে ৪৮টি F-35 যুদ্ধবিমান, ৪৯টি প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি ইঞ্জিন, যোগাযোগ সরঞ্জাম, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য সহায়ক সামগ্রী।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বিক্রয় উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ন্যাটো-বহির্ভূত মিত্রের নিরাপত্তা জোরদারে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্যকে সমর্থন করবে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, প্রস্তাবিত চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবের বিদ্যমান ও ভবিষ্যৎ হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়তে পারে। পাশাপাশি দেশটির নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার এবং মার্কিন, আঞ্চলিক ও ন্যাটো বাহিনীর সঙ্গে সামরিক আন্তঃকার্যক্ষমতা উন্নত করার সুযোগ তৈরি হবে।
প্রস্তাবিত F-35 সরবরাহের ফলে সৌদি আরবের আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে স্থলে অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে দেশটির সামরিক যুদ্ধবিমানের বহরও সম্প্রসারিত হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সৌদি আরবের সশস্ত্র বাহিনীতে প্রস্তাবিত সরঞ্জাম ও সেবাগুলো যুক্ত করার ক্ষেত্রে দেশটির কোনো বড় ধরনের অসুবিধা হবে না।
‘আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন হবে না’
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রয় “অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যে কোনো পরিবর্তন আনবে না”। একই সঙ্গে এই বিক্রয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতেও কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
চুক্তিটির প্রধান ঠিকাদার হিসেবে রয়েছে টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থভিত্তিক লকহিড মার্টিন অ্যারোনটিকস এবং কানেকটিকাটের ইস্ট হার্টফোর্ডভিত্তিক প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি মিলিটারি ইঞ্জিনস।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর কংগ্রেসের পর্যালোচনা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত নভেম্বরে সৌদি আরবের কাছে F-35 যুদ্ধবিমান বিক্রির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। এর একদিন পর তিনি সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানকে হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানান।
বর্তমানে প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রয় চুক্তিটি মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। কংগ্রেসে বড় ধরনের আপত্তি না উঠলে যুক্তরাষ্ট্র সরকার, লকহিড মার্টিন এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের মধ্যে চুক্তির বিস্তারিত আলোচনা শুরু হতে পারে।
চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে সৌদি আরব হবে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি F-35 যুদ্ধবিমানের নতুন ব্যবহারকারী দেশগুলোর একটি এবং দেশটির কাছে পঞ্চম
প্রজন্মের যুদ্ধবিমান সরবরাহের এটি হবে প্রথম উদ্যোগ।
পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে সম্ভাব্য এই চুক্তি সৌদি আরবের সামরিক বিমান সক্ষমতা, প্রতিরক্ষা অবকাঠামো এবং যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরিধিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে। তবে চুক্তির চূড়ান্ত বাস্তবায়ন কংগ্রেসের পর্যালোচনা ও পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
এজেন্সির তথ্যসহ





